উগান্ডার এন্তেবি বিমানবন্দরে দেশটির ঐতিহ্যবাহী রাজা ওয়ো নিম্বা কাবাম্বা ইগুরুর মরদেহ দেশে এসে পৌঁছালে প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি মুসেভেনিসহ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে ক্যান্সারের চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই রাজার মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব রেকর্ড অনুযায়ী সর্বকনিষ্ঠ শাসক হিসেবে পরিচিত এই রাজার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক ও সরকারি শোকের আবহে পুরো উগান্ডায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজার দেহাবশেষ এন্তেবি বিমানবন্দর থেকে সামরিক হেলিকপ্টারে করে পশ্চিম উগান্ডার কিয়েগেগোয়াতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে সড়কপথে ফোর্ট পোর্টালের রাজপ্রাসাদে স্থানান্তর করা হয়। আগামী শনিবার, অর্থাৎ যে দিনে তাঁর রাজ্যাভিষেকের বার্ষিকী উদযাপনের কথা ছিল, সেই দিনেই তাঁকে সমাহিত করা হবে।
উত্তরাধিকার বিতর্ক
রাজার মৃত্যুর পর থেকেই তোরো রাজ্যের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী কে হবেন, তা নিয়ে রাজপরিবারের মধ্যে প্রকাশ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ক্যালভিন আর্মস্ট্রং রোমাইরে আকিইকি দাবি করেছেন, রাজার একটি ছোট সন্তান রয়েছে যার পরিচয় পরে প্রকাশ করা হবে। তবে তোরো রাজকীয় বংশের প্রধান চার্লস কামুরাসি দাবি করেছেন, তিনি এমন কোনো সন্তানের কথা জানেন না। এই বিষয়টি নিয়ে রাজপরিবারের সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
সরকারি হস্তক্ষেপ
উগান্ডার সরকার জনগণকে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রী হেনরি তুমুকুন্দে বলেছেন, বিষয়টি ঐতিহ্যবাহী ও সাংস্কৃতিক নেতাদের আইন অনুযায়ী সুরাহা করা হবে। প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি ইতিমধ্যে রাজাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং আগামী কয়েকদিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।
জনপ্রিয় এই রাজা মাত্র তিন বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন এবং ১৮ বছর বয়সে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজমুকুট পরিধান করেন। তোরো রাজ্যের প্রায় ২০ লাখ মানুষের অভিভাবক ও আধুনিকায়নকারী হিসেবে পরিচিত এই রাজার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো রাজ্যে।










