ফ্রান্সের গ্রাভলিন্স সৈকতে অভিবাসীদের ছোট নৌকায় ওঠার নতুন কৌশল লক্ষ্য করা গেছে, যা ইউরোপ থেকে যুক্তরাজ্যের পথে অবৈধ অনুপ্রবেশের ধরনে পরিবর্তন এনেছে। বিসিসির সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কঠোর অভিযানের ফলে ছোট নৌকার ঘাটতি দেখা দেওয়ায় পাচারকারী চক্রগুলো এখন অনেক বেশি অভিবাসীকে বহনকারী বড় আকারের নৌকার ওপর নির্ভর করছে।
ফ্রান্সে সক্রিয় পাচারকারীরা জানিয়েছেন, পুলিশের তৎপরতায় ছোট নৌকার সরবরাহ কমে গেছে। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী পাচারকারী দলগুলো এখন জোটবদ্ধ হয়ে কম নৌকায় বেশি মানুষ পাঠানোর কৌশল নিয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো ১৫ মিটার দীর্ঘ ‘মেগা-ডিংগি’গুলো এই নতুন কৌশলেরই অংশ।
এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সরকার উপকূলীয় এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর মধ্যকার আলোচনার প্রেক্ষাপটে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই কঠোরতার কারণে পাচারের খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এক বছর আগে যেখানে জনপ্রতি ১,৩০০ ইউরো লাগত, বর্তমানে সেখানে ২,০০০ ইউরো পর্যন্ত দাবি করছে পাচারকারীরা।
বিবিসির সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, গ্রাভলিন্স সৈকতে অভিবাসীদের এই পাচার প্রক্রিয়ার সময় তারা বাধার মুখে পড়েন এবং এক পর্যায়ে পাচারকারীদের হামলায় তাদের একজন ক্যামেরাম্যান আহত হন। পাচারকারীরা এখন দিনের বেলায় নজরদারি এড়িয়ে নৌকা ছাড়ার সুযোগ খুঁজছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে এই বড় নৌকাগুলোতে যাতায়াত করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এর আগে গত আগস্টে মাঝ সমুদ্রে নৌকা থেকে অগ্নিকাণ্ডের পর ১৭০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে চ্যানেল পার হওয়ার সময় অন্তত ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ফ্রান্সের পুলিশ দাবি করেছে, তারা উপকূল থেকে ছেড়ে যাওয়ার আগেই দুই-তৃতীয়াংশ নৌকা আটকে দিচ্ছে। তবে অবৈধভাবে নদী পার হওয়ার এই প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। অনেক অভিবাসী মাসের পর মাস উপকূলের কাছাকাছি ঝোপঝাড় বা বালিয়াড়িতে মানবেতর জীবনযাপন করে নৌকার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন।










