যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক ডেবোরা বোর্ডম্যান দেশটিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় নির্বাহী আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে আনা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন আপাতত খারিজ করে দিয়েছেন। ৬ আগস্ট ট্রাম্পের জারি করা এই নতুন আদেশের মাধ্যমে জন্মগত নাগরিকত্বের সুযোগ সীমিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এটি ট্রাম্পের নেওয়া বিতর্কিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম, যা আইনগত পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে।
বিচারক ডেবোরা বোর্ডম্যান অবশ্য ট্রাম্পের এই নতুন আদেশের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, এমন আদেশ নজিরবিহীন। তবে তিনি অভিবাসী পরিবার ও অধিকার সংস্থাগুলোর জোটকে তাদের চলমান মামলার নথিপত্রে নতুন এই আদেশের বিষয়টি সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। সংশোধিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিচারক এই আবেদনের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করবেন বলে জানিয়েছেন।
২০২৫ সালে বিচারক বোর্ডম্যান ট্রাম্পের প্রথম নির্বাহী আদেশটি বেআইনি ঘোষণা করে তা স্থগিত করেছিলেন। ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, জন্মগত নাগরিকত্বের এই সুবিধা অপব্যবহার করে অনেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দিচ্ছেন, যাকে তিনি বার্থ ট্যুরিজম হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্মগ্রহণকারী প্রায় সব শিশুই নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী। ১৮৬৮ সালে গৃহীত এই সংশোধনীটি গৃহযুদ্ধের পর দাসত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে তৈরি করা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিকভাবে এই অধিকারের পক্ষে রায় দিয়ে আসছে।
ট্রাম্পের নতুন এই আদেশে ‘শত্রু ভাবাপন্ন বিদেশি’ বা ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত অ-নাগরিক বাবা-মায়ের সন্তানদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, নির্দিষ্ট কিছু বাণিজ্যিক লেনদেনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব লাভের প্রচেষ্টাকেও এর আওতায় আনা হয়েছে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো এই পদক্ষেপকে শিশুদের মৌলিক নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার আরেকটি প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।










