যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে সামরিক পত্রিকা ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-এর তিন সাংবাদিক দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগের বিরুদ্ধে একটি আইনি মামলা দায়ের করেছেন। পত্রিকাটির প্রকাশক ম্যাক্স লেডারার, প্রধান সম্পাদক এরিক স্লাভিন এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রতিবেদক লারা কর্ট অভিযোগ করেছেন যে, তাদের বরখাস্ত করার ঘটনাটি পত্রিকাটির স্বাধীনতা খর্ব করার একটি অপচেষ্টা। এই মামলাটি মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে তাদের বাকস্বাধীনতার অধিকার ক্ষুণ্ন করার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।
মামলার বিবরণ
আদালতে দাখিলকৃত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিরক্ষা বিভাগ এবং প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা এই সেন্সরশিপ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। সাংবাদিকদের দাবি, সামরিক কার্যক্রম নিয়ে স্বাধীন সাংবাদিকতার অধিকার চর্চা করার কারণে তাদের ওপর এই দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। পত্রিকাটির দীর্ঘদিনের সম্পাদকীয় স্বাধীনতা বজায় রাখতেই তারা আইনি পথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন লারা কর্ট।
বিবাদের সূত্রপাত
এই বিরোধের সূত্রপাত হয় জুলাই মাসে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে, যেখানে এরিক স্লাভিন ও লারা কর্ট পত্রিকাটির সম্পাদকীয় স্বাধীনতা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এর আগে জানুয়ারিতে প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র শন পার্নেল পত্রিকাটিকে ‘আধুনিকায়ন’ এবং এর বিষয়বস্তু পরিবর্তন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, পত্রিকাটিকে সেনাসদস্যদের মনোবল বৃদ্ধির উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। তবে সমালোচকরা একে সামরিক নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবে দেখছেন।
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও সাংবাদিকতা
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন যুদ্ধজাহাজে নাবিকদের দুরবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের কারণেই মূলত এই বরখাস্তের ঘটনা ঘটে। ওই প্রতিবেদনের সত্যতা অস্বীকার করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষাসচিব হেগসেথ একে ‘ভুয়া খবর’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। এরপরই প্রতিরক্ষা বিভাগ প্রকাশক ম্যাক্স লেডারারকে ওই দুই সাংবাদিককে বরখাস্ত করার নির্দেশ দেয়। লেডারার সেই নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২১ আগস্ট তাকেসহ তিন সাংবাদিককেই বরখাস্ত করা হয়।
ইতিহাস ও গুরুত্ব
মার্কিন গৃহযুদ্ধের সময় থেকে প্রকাশিত ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’ দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক বাহিনী থেকে স্বাধীন একটি সংবাদমাধ্যম হিসেবে পরিচিত। পত্রিকাটি মূলত সামরিক বাহিনী ও তাদের পরিবারের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ সরবরাহ করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনা সামরিক গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ওয়াশিংটন ডিসির একটি জেলা আদালতে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।









