যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে তিন সন্তান হত্যার দায়ে অভিযুক্ত লিন্ডসে ক্ল্যান্সির ভাগ্য এখন আদালতের জুরি বোর্ডের হাতে। সন্তানদের হত্যার ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি মানসিক অসুস্থতার কারণে ঘটেছে, তা নিয়ে জুরিরা তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন। পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা এই মামলার রায়ের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে অভিযুক্তের ভবিষ্যৎ।
মামলার বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, ঘটনার সময় লিন্ডসে ক্ল্যান্সি ‘পোস্টপার্টাম সাইকোসিস’ নামক গুরুতর মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তার আইনজীবী কেভিন রেডিংটন যুক্তি দেখান যে, ক্ল্যান্সি সন্তানদের হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন, যা প্রমাণ করে তিনি মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন না। তিনি দাবি করেন, মানসিক রোগের কারণে ক্ল্যান্সি এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী নন।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেনিফার স্প্রাগ দাবি করেছেন, ক্ল্যান্সি মানসিকভাবে অসুস্থ থাকলেও হত্যাকাণ্ডের সময় তার কোনটি সঠিক আর কোনটি ভুল তা বোঝার ক্ষমতা ছিল। তার মতে, ক্ল্যান্সি পরিকল্পিতভাবেই সন্তানদের হত্যা করেছেন এবং চিকিৎসকদের কাছে তার মনের নেতিবাচক চিন্তাগুলো গোপন রেখেছিলেন।
মামলায় লিন্ডসে ক্ল্যান্সি তার দুই ছেলে ও এক মেয়েকে হত্যার দায় অস্বীকার করেননি। ম্যাসাচুসেটসের আইন অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে প্যারোল ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়ার বিধান রয়েছে। এছাড়া আদালত তাকে মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে নির্দোষ ঘোষণা করলে তাকে আজীবন একটি মানসিক হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। জুরি বোর্ডের ১২ সদস্য বৃহস্পতিবার থেকে তাদের আলোচনা শুরু করেছেন এবং শুক্রবার পুনরায় আলোচনায় বসবেন।









