ভেনেজুয়েলার মারাকাইবো শহরে মার্কিন প্রশাসন দেশটির তেলক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জন্য একটি চুক্তির কাজ করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সাথে সম্পৃক্ত সূত্রগুলো জানিয়েছে, চুক্তির আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলার নির্দিষ্ট কিছু তেলক্ষেত্রের উন্নয়নের দায়িত্ব দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে উৎপাদিত তেলের সরবরাহ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নিশ্চিত করা হবে। এই উদ্যোগটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চুক্তির ধরন ও আলোচনা
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, এই চুক্তিতে তেলক্ষেত্রগুলো ইজারা দেওয়ার বিষয়টি আইনি কাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে মার্কিন উৎপাদকদের মাঝে তেলক্ষেত্রগুলো বরাদ্দ করার জন্য নিলাম বা দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে। আলোচনার তালিকায় ওরিনোকো বেল্টের নতুন ক্ষেত্রসহ লেক মারাকাইবোর কিছু পুরনো তেলক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে বর্তমানে একটি ছোট চীনা কোম্পানি কাজ করছে।
আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা
ভেনেজুয়েলার প্রচলিত হাইড্রোকার্বন আইন অনুযায়ী, সরাসরি তেলক্ষেত্র ইজারা দেওয়ার সুযোগ নেই এবং দেশটির সংবিধান অনুযায়ী খাতের মূল কার্যক্রম রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া ভেনেজুয়েলা কয়েক দশক ধরে বিদেশি উৎপাদকদের দেশটির তেল মজুদ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া থেকে বিরত রেখেছে। ফলে এই সম্ভাব্য চুক্তিটি সাংবিধানিক জটিলতা ও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
প্রেক্ষাপট
চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি শিল্পে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন সক্ষমতা দৈনিক প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল। নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্রাম্প প্রশাসন এই বাড়তি সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাইছে। এছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরানের সাথে সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি জ্বালানি মজুদ পুনর্ভরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।









