নেপালের নুয়াকোট জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় স্বজন হারানোর বেদনা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গত বুধবার নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত এলাকায় আঘাত হানা এই দুর্যোগে অন্তত ৩৮৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৯০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ভূকম্পনবিদরা জানিয়েছেন, বন্যার তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে তারা একে শুরুতে ভূমিকম্প হিসেবে শনাক্ত করেছিলেন। উদ্ধারকর্মীরা দুর্গম এলাকায় কাদা ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছেন।
কল্পনা মল্লা নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বিবিসিকে জানান, তিনি নিজের চোখের সামনে তার বাবা, মা, বোন ও বোনের সন্তানদের বন্যার তোড়ে ভেসে যেতে দেখেছেন। তিনি বলেন, তারা পালানোর কোনো সুযোগ পাননি। কল্পনা ও তার ছেলে একটি বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়ে কোনোমতে প্রাণে বেঁচে গেছেন। তার ছেলে সুগম মল্লা জানান, তিনি তার মায়ের হাত ধরে তাকে বাঁচিয়েছেন।
বন্যায় শুধু মানুষই নয়, ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে গবাদি পশু ও কৃষিজমির। গোমা পণ্ডিত নামের আরেক নারী জানান, তার সব মহিষ ভেসে গেছে। এছাড়া তার ক্ষেতের কয়েক টন ভুট্টা, ধান ও সরিষা সব বিলীন হয়ে গেছে।
কাটমান্ডুর টিইউ টিচিং হাসপাতালে নিখোঁজদের স্বজনরা উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করছেন। রাম কুমারী শ্রেষ্ঠা তার স্বামীর খোঁজে হাসপাতালে এসেছেন। তিনি জানান, রাসুয়া যাওয়ার পথে তার স্বামীর সঙ্গে সবশেষ গতকাল রাত আটটায় যোগাযোগ হয়েছিল, কিন্তু এখন তার ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। একইভাবে মানি শ্রেষ্ঠা বিশ্বা তার ভাই, চাচাতো ভাই, চাচা ও বন্ধুকে হারিয়ে হাসপাতালের ক্যাম্পের সামনে অপেক্ষায় আছেন।
ট্র্যাকিং গাইড সোনম দোরজে তার গ্রাম রাসিওয়া স্যাপহুতে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়া স্বজনদের নিয়ে চিন্তিত। তিনি জানান, ঘটনার এক ঘণ্টা আগে গ্রাম থেকে বেরিয়ে আসার কারণে তিনি রক্ষা পেয়েছেন। তিনি শুনেছেন তার বাড়িটি পুরোপুরি ধসে পড়েছে। তার বোন দেচেন তামাংসহ পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য এখনো নিখোঁজ। তিনি জানান, অনেক মানুষ এখন গৃহহীন অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন এবং তাদের জরুরি ভিত্তিতে খাবার, আশ্রয় ও চিকিৎসা সহায়তা প্রয়োজন।









