Home / আন্তর্জাতিক / নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যা, নিহত ২৭০ ছাড়াল

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যা, নিহত ২৭০ ছাড়াল

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ২৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নেপালের বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। এই দুর্যোগে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে, যার মধ্যে আট শতাধিক বিদেশি পর্যটক অন্তর্ভুক্ত। উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকলেও দুর্গম এলাকা ও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর কারণে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে অনেকে মনে করেছিলেন কোনো ভূমিকম্পের কারণে এই বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের দাবি, এটি একটি হিমবাহ ধস ও এর ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষ প্রবাহের (debris flow) ফল। তিব্বতের লেন্দে নদীর হিমবাহ থেকে বিশাল বরফের খণ্ড ও পাথরের পাহাড় ধসে পড়ায় এই বিপর্যয় ঘটেছে।

ঘটনার ভয়াবহতা প্রসঙ্গে নেপালের বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ভূতত্ত্ববিদ প্রকাশ পোখরেল জানিয়েছেন, লেন্দে নদীর হিমবাহ ধসে বরফ ও পাথরের স্তূপ নেপালের দিকে প্রবেশ করে। এর ফলে ত্রিশূলি নদীর পানির স্তর মাত্র ৩০ মিনিটে নয় মিটার পর্যন্ত বেড়ে যায়। এ সময় নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো তলিয়ে যায়, ভেসে যায় ঘরবাড়ি ও যানবাহন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হঠাৎ কাদার স্রোত ধেয়ে আসায় জীবন বাঁচানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহগুলোর দ্রুত গলন এবং বরফ কমে যাওয়াকে এই বিপর্যয়ের নেপথ্য কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিগত তিন দশকে নেপালের হিমবাহগুলো তাদের বরফের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হারিয়েছে। যদিও এই নির্দিষ্ট বন্যার সাথে সরাসরি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সম্পর্ক এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন, তবে পার্বত্য অঞ্চলে এই ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

হিমবাহ ধসের মতো ঘটনা সাধারণত বিরল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিব্বত ও এর আশেপাশের অঞ্চলে এমন ঘটনার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ২০১৬ সালে তিব্বতের আরু রেঞ্জে এবং ২০২২ সালে কুনলুন পর্বতমালায় হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটেছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয়ের মতো সংবেদনশীল এলাকায় এ ধরনের দুর্যোগের পূর্বাভাস দেওয়া অত্যন্ত কঠিন, কারণ অনেক ক্ষেত্রে বৃষ্টির মতো পূর্বলক্ষণ ছাড়াই হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটছে।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *