নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। নেপালের কর্তৃপক্ষ ও চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, এই দুর্যোগে বিপুল সংখ্যক মানুষ হতাহত হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে। নেপাল ও তিব্বত সীমান্তের এই ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর ফলে বহু পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন এবং পাহাড়ি জনপদগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
দুর্যোগের কারণ
প্রাথমিকভাবে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এটিকে ভূমিকম্প বলে ধারণা করলেও, পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায় যে এটি ভূমিকম্প ছিল না। মূলত একটি হিমবাহ ধসে পড়ার কারণে এই বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে, যা ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বরফ বা বৃষ্টির পানি মাটিকে আলগা করে দেওয়ায় এই আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হতে পারে।
নিহত ও নিখোঁজের সংখ্যা
নেপালি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৫৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ৮২৬ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ৫২৯ জন পর্যটক। নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও কানাডার নাগরিকরা রয়েছেন। অন্যদিকে, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতেও ৫৮৫ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই দুর্যোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ব নেতারা। নেপালের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, পুরো দেশ এই ঘটনায় শোকাহত। চীন সরকার উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মানবিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় দল পাঠিয়েছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য নেপালকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে।
পরবর্তী সতর্কতা
ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (আইসিআইএমওডি) সতর্ক করে জানিয়েছে, নদীগুলোতে জমে থাকা ধ্বংসাবশেষের কারণে ভবিষ্যতে দ্বিতীয় দফায় বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বর্তমানে এই নদীর গতিপথের বাধাগুলো এবং বাঁধের স্থায়িত্ব পরীক্ষা করছে।










