প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ কমাতে এবং নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে মূল্যায়নের সুবিধার্থে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বা পিইসি পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে সরকার। দীর্ঘদিনের এই প্রথা বাতিলের ফলে এখন থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কোনো পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে না।
## পরীক্ষার চাপ কমাতে সরকারের বড় পদক্ষেপ
দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক স্তরে এই সমাপনী পরীক্ষা নিয়ে অভিভাবক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্ক ছিল। শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরির কারণ হিসেবে অনেকেই এই পরীক্ষাকে দায়ী করে আসছিলেন। সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
## নতুন শিক্ষাক্রম ও মূল্যায়ন পদ্ধতি
জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের কেবল মুখস্থ বিদ্যায় পারদর্শী না করে তাদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতির মাধ্যমে মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন পদ্ধতিতে বছরজুড়ে বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ধারাবাহিক মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে পরীক্ষার ভয় বা কোচিং নির্ভরতা অনেকটা কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
## শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে প্রতিক্রিয়া
পরীক্ষা বাতিলের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও অভিভাবকবৃন্দের একটি বড় অংশ। তারা মনে করছেন, পরীক্ষার বদলে সৃজনশীল ও বাস্তবমুখী শিক্ষা পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিলে শিক্ষার্থীদের মেধার প্রকৃত বিকাশ ঘটবে। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান পদ্ধতি আরও উন্নত করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
## দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রাথমিক স্তরে পরীক্ষা বাতিলের বিষয়টি বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই পদ্ধতি কীভাবে কার্যকরভাবে পরিচালিত হবে এবং কীভাবে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে, তা নিয়ে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। সরকারের এই সাহসী উদ্যোগ শিক্ষার পরিবেশকে আরও আনন্দদায়ক করে তুলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।










