বাংলাদেশের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তীব্র জ্বালানি সংকটের প্রভাবে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা ও দরপতন দেখা দিয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিল্পকারখানায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ আয় নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি সূচক ও লেনদেনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে সূচক ৫ হাজার ৯০০ পয়েন্টের ঘর অতিক্রম করলেও, গত নয় কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৬০ পয়েন্ট হারিয়ে ৫ হাজার ৬৪৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এই সময়ে লেনদেনও কমে হাজার কোটি টাকা থেকে ছয়শ কোটির ঘরে নেমে এসেছে। ২৪ আগস্ট লেনদেনের তথ্যে দেখা যায়, বাজারে মাত্র ১৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়লেও ৩৫৫টি প্রতিষ্ঠানের দাম কমেছে।
বাজার বিশ্লেষক ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে অনেক শিল্পকারখানা তাদের সক্ষমতার মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় কোম্পানিগুলোর মুনাফা ও ব্যাংকঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
মিডওয়ে সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশিকুর রহমান বলেন, জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংক খাতের চাপ শেয়ারবাজারকে চাপে ফেলেছে। এছাড়া দীর্ঘ দিন ধরে নতুন আইপিও না আসা এবং বাজারে ভালো ও শক্তিশালী কোম্পানির অভাব কাঠামোগত দুর্বলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
শেয়ারবাজারকে টেকসই করার জন্য জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা, শিল্প উৎপাদন বাড়ানো এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, অর্থনীতির চাকা সচল না হওয়া পর্যন্ত শেয়ারবাজারে প্রকৃত স্থিতিশীলতা ফেরা কঠিন। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও জ্বালানি সংকটের মতো নেতিবাচক সংবাদের কারণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন, যা বাজারের তারল্য সংকটের অন্যতম কারণ।
বর্তমানে তালিকাভুক্ত ৩৮৭টি কোম্পানির মধ্যে প্রায় অর্ধেকই দুর্বল বা জেড গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত। ভালো ও মানসম্মত কোম্পানির সংকট কাটাতে দ্রুত আইপিও প্রক্রিয়া সচল করা এবং বাজারে নতুন ও বিনিয়োগযোগ্য শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।










