যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে কোচ পেপ গার্দিওলার প্রস্থানের পর নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম শক্তিশালী ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি। ক্লাবের নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন এনজো মারেস্কা, যার সামনে এখন গার্দিওলার বিশাল উত্তরাধিকার ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। গত এক দশকে ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা ও একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা সিটি ফুটবল বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী দল হয়ে উঠেছিল। গার্দিওলার উত্তরসূরি হিসেবে মারেস্কা কতটা সফল হবেন, তা নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা।
মারেস্কার অধীনে নতুন পরিচয়
গার্দিওলার দর্শন অনুযায়ী দীর্ঘ সময় চলা ম্যানচেস্টার সিটির খেলার ধরনে কতটা পরিবর্তন আসবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। মারেস্কা অতীতে গার্দিওলার সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন এবং লিস্টার সিটি ও চেলসিতে নিজের কোচিং দক্ষতা দেখিয়েছেন। তবে সিটির দায়িত্ব গ্রহণ করার পর প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচেই আর্সেনালের কাছে ৩-০ গোলে হার মারেস্কার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। তিনি গার্দিওলার কৌশলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি ব্যক্তিগত দর্শন কতটা দ্রুত প্রতিষ্ঠা করতে পারেন, তার ওপরই দলের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
রদ্রির শূন্যতা ও মিডফিল্ডের নতুন রূপ
দীর্ঘদিন ধরে দলের প্রাণভ্রমরা হিসেবে পরিচিত রদ্রি বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ায় সিটি বড় এক সংকটে পড়েছে। স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ী রদ্রিকে প্রতিস্থাপন করা প্রায় অসম্ভব। ক্লাবটি মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে সই করালেও, তিনি রদ্রির মতো একই ধাঁচের খেলোয়াড় নন। তরুণ আইয়ুব বোয়াদির দিকেও নজর রয়েছে সিটির, তবে রদ্রির অভাব পূরণে পুরো মিডফিল্ড কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
খেলা নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণভাগ
গত মৌসুমে জেতা ম্যাচ থেকে ১৭ পয়েন্ট খুইয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি, যা তাদের শিরোপা দৌড় থেকে ছিটকে দেয়। জন স্টোনস, বার্নার্ডো সিলভা এবং নাথান আকের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা ক্লাব ছাড়ায় রক্ষণভাগের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা নতুন কোচের জন্য বড় পরীক্ষা। নতুন খেলোয়াড়রা মারেস্কার নিয়ন্ত্রিত খেলার কৌশলের সাথে কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন, সেটাই দেখার বিষয়।
হাল্যান্ডের ওপর নির্ভরতা ও বিশ্বকাপের ক্লান্তি
আক্রমণভাগে আর্লিং হাল্যান্ড দলের প্রধান ভরসা হলেও শুধু তার ওপর ভিত্তি করে শিরোপা জেতা কঠিন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আক্রমণভাগের বৈচিত্র্য বাড়ানো মারেস্কার জন্য জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া বিশ্বকাপে অনেক খেলোয়াড় ব্যস্ত থাকায় প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিতে ঘাটতি রয়ে গেছে। নতুন কোচ স্বীকার করেছেন যে, বিশ্বকাপের ক্লান্তি এবং দলের অগোছালো অবস্থার কারণে মৌসুমের শুরুতে কিছুটা ছন্দপতন হতে পারে।









