চীনের হংকংয়ে স্বাধীন বইয়ের দোকানগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটিতে মুক্ত চিন্তার চর্চা ও পাঠকের মধ্যে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের কঠোর নজরদারি এবং জাতীয় নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে একের পর এক বইয়ের দোকানগুলোতে তল্লাশি ও গ্রেফতারের ঘটনায় এই উদ্বেগ বাড়ছে। হংকংয়ের শম সুই পো এলাকার হান্টার বুকস্টোরসহ বেশ কিছু জনপ্রিয় বইয়ের দোকান এখন বন্ধ হওয়ার পথে।
২০১৯ সালে হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থি বড় আন্দোলনের পর থেকে সেখানে স্বাধীন বইয়ের দোকানগুলোর প্রসার ঘটেছিল। এসব দোকানে এমন সব বই পাওয়া যেত যা চীনের মূল ভূখণ্ডের পাঠকদের কাছে নিষিদ্ধ বা সংবেদনশীল। এর মধ্যে ১৯৮৯ সালের তিয়েনআনমেন স্কয়ারের ঘটনা, গণতন্ত্রপন্থি কর্মীদের সাক্ষাৎকার এবং কর্তৃত্ববাদ বিরোধী বিভিন্ন ধ্রুপদী সাহিত্য উল্লেখযোগ্য। চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে আসা তরুণ পাঠকদের কাছে এই দোকানগুলো কেবল বই সংগ্রহের জায়গা ছিল না, বরং ছিল মুক্তমনা এক কমিউনিটির অংশ হওয়ার মাধ্যম।
পুলিশি অভিযানের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় বই বিক্রেতারা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। গত ২৪ জুন হান্টার বুকস্টোরের মালিক ও এক কর্মীকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও অর্থপাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। একই ধরনের অভিযোগে মার্চ মাসে ‘বুক পাঞ্চ’ এবং ১৫ জুলাই ‘গ্রিনফিল্ড বুকস্টোর’ ও ‘হ্যাভ আ নাইস স্টে’ নামে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়। এসব ঘটনার পর অনেকেই দোকান বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হংকংয়ে বর্তমানে অঘোষিত অনেক নিয়ম বা ‘রেড লাইন’ তৈরি হয়েছে। এর ফলে বই বিক্রেতারা নিজের অজান্তেই সেলফ-সেন্সরশিপ বা আত্মনিয়ন্ত্রণের পথ বেছে নিচ্ছেন। চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে হংকংয়ে বই কিনতে আসা পাঠকদের কাছে এখন বড় প্রশ্ন, ভবিষ্যতে তারা সেখানে কোনো স্বাধীন বইয়ের দোকানের অস্তিত্ব খুঁজে পাবেন কি না। তবে এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও অনেক পাঠক মনে করছেন, বই কেনা ও পড়া এখন এক ধরনের নীরব প্রতিরোধের ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।









