বুলগেরিয়ার সোফিয়ায় ইরান তাদের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপীয় অঞ্চলকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি তার বুলগেরীয় প্রতিপক্ষের সঙ্গে আলাপকালে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে কোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালালে সেই দেশ তেহরানের প্রতিশোধমূলক হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। মার্কিন সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য বুলগেরিয়া তাদের বেজমার বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ায় এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপ ন্যাটো জোটের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলোর কেন্দ্রস্থল এবং ইউক্রেনের জন্য সরবরাহ লাইন হিসেবে কাজ করে। এছাড়া কৃষ্ণসাগরের নিকটবর্তী হওয়ায় ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে এই অঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বুলগেরিয়ার পার্লামেন্ট গত জুলাই মাসে বেজমার বিমানঘাঁটিকে মার্কিন সামরিক বিমানের জ্বালানি সংগ্রহের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের অনুমোদন দেয়, যা মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কার্যক্রমকে সহজতর করার অংশ।
নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ভূ-রাজনীতি
সেন্টার ফর ইউরোপিয়ান রিফর্মের সিনিয়র ফেলো আরমিদা ফন রিজের মতে, এই অঞ্চলটিকে ইউরোপের ‘সফট আন্ডারবেলি’ বা দুর্বল অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে বুলগেরিয়ার স্থানীয়দের কাছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধটি ইউক্রেন যুদ্ধের তুলনায় কম গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। বুলগেরিয়ার সাংবাদিক অ্যাঞ্জেল পেত্রভ জানিয়েছেন, দেশটির সরকার ইউক্রেন যুদ্ধ এবং রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তার চাপে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশ অমান্য করার মতো সক্ষমতা তাদের নেই।
বিশ্লেষণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক আলি বাকিরের মতে, ইউরোপে হামলা চালালে তা বরং ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্দেশ্যকেই সফল করবে এবং ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন করবে। এছাড়া ন্যাটো সদস্য দেশে সরাসরি হামলা হলে তা ইউরোপকে বাধ্য করবে যুদ্ধের পক্ষভুক্ত হতে, যা তেহরানের জন্য উল্টো বিপদের কারণ হতে পারে। তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অস্থিরতা থাকলে ভুলবশত কোনো অপ্রীতিকর পদক্ষেপের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধ ইউরোপের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।










