বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় প্রখ্যাত ইউরোলজিস্ট ও কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলামের পরিচয়, ছবি ও কণ্ঠস্বর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে নকল করে ভুয়া ওষুধের বিজ্ঞাপন প্রচারের অভিযোগে দুই প্রতারককে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন তানভির আলম ওরফে রাহাত ও মো. নুরনবী ইসলাম ওরফে মানিক।
প্রতারণার কৌশল
ডিবি জানায়, গ্রেফতারকৃতরা সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য। তারা ফেসবুক পেজ ও আইডিতে ডা. কামরুল ইসলামের ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে মানুষের আস্থা অর্জন করত। এরপর এআই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ওই চিকিৎসকের কণ্ঠ নকল করে বিভিন্ন ভিডিও তৈরি করা হতো। এসব ভিডিওর মাধ্যমে প্রস্টেট সমস্যাসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার চিকিৎসার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ‘প্রস্তুলিন এফ’ (Prostulin F) নামক ওষুধের বিজ্ঞাপন ও বিক্রি চালানো হচ্ছিল। জনপ্রিয় চিকিৎসকের নাম থাকায় সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছিল।
তদন্ত ও গ্রেফতার
ডা. মো. কামরুল ইসলাম বিষয়টি অবগত হওয়ার পর তার ব্যক্তিগত সহকারীর মাধ্যমে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারকদের শনাক্ত করার পর গত ১৮ ও ১৯ আগস্ট চট্টগ্রাম মহানগরের বায়েজিদ বোস্তামি ও পাঁচলাইশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন, চারটি সিম কার্ড এবং সাতটি ভুয়া ভেষজ ফুড সাপ্লিমেন্ট উদ্ধার করা হয়েছে।
সতর্কতা
ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, অনলাইনে কোনো ওষুধ বা স্বাস্থ্যপণ্য কেনার আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করা জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন দেখে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ওষুধ কেনা থেকে বিরত থাকতে এবং প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।










