ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতার কারণে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি জনবসতি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে অবৈধ বসতি স্থাপনের প্রসার এবং বসতি স্থাপনকারীদের হামলার মুখে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের ঘটনা বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েলের ওপর সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং দেশটিতে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এই মানবাধিকার সংস্থা।
প্রতিবেদনে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বসতি স্থাপনকারীদের অস্ত্র সরবরাহ, অর্থায়ন এবং তাদের সব অপরাধের দায়মুক্তি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বেড়েছে। বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দুই মাসে এই হামলার তীব্রতা চরম আকার ধারণ করে। এ সময় হত্যা, যৌন সহিংসতা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও সম্পত্তি দখলের মতো ঘটনা ঘটেছে।
এইচআরডব্লিউর ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন বিষয়ক গবেষক সারা সানবার বলেন, ইসরায়েলি সরকার ও বসতি স্থাপনকারীদের মূল লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনিদের এলাকা থেকে বিতাড়িত করে সেখানে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা ও তাদের এলাকা থেকে বের করে দিচ্ছে, আর রাষ্ট্র তাদের অস্ত্র ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে সহায়তা করছে।
গত এপ্রিল ও মে মাসে রামাল্লা, নাবলুস এবং জর্ডান উপত্যকার সাতটি ফিলিস্তিনি জনবসতিতে অনুসন্ধান চালিয়েছে সংস্থাটি। এতে দেখা গেছে, অনেক সময় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতেই অস্ত্রধারী বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে, যেখানে সৈন্যরা নীরব ভূমিকা পালন করছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয়ের (ওসিএইচএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১০৭টি ফিলিস্তিনি জনবসতির প্রায় ৫ হাজার ৯০০ মানুষ সহিংসতার কারণে পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এছাড়া ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জেনিন, তুলকারেম ও নূর শামস ক্যাম্প থেকে আরও ৩২ হাজার ফিলিস্তিনিকে উচ্ছেদ করেছে।
সারা সানবার আরও বলেন, ইসরায়েলি মিত্র দেশগুলো দেশটিকে একচেটিয়া ছাড় দেওয়ায় বসতি স্থাপনকারীরা শাস্তির ঊর্ধ্বে থাকছে। তিনি ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্য চুক্তি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি এই সংকটের দায় ইসরায়েলের সহযোগীদেরও নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন।









