ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার চালানো ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, কয়েক মাসের মধ্যে এবারই প্রথম রুশ বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় বেশ কিছু আবাসিক ভবন, একটি শিশুদের হাসপাতাল এবং একটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনের স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিস জানিয়েছে, হামলায় ৪০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। কিয়েভের ডেসনিয়ানস্কি এবং দিনিপ্রো জেলাসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ও গরম পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। মেয়র ক্লিচকো জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন।
কিয়েভে ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকের সামনে মেয়র ক্লিচকো বিবিসিকে বলেন, ইউক্রেন বর্তমানে গুরুতর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের পার্টনারদের কাছ থেকে আরও সহায়তা প্রয়োজন। বিশেষ করে পর্যাপ্ত অ্যান্টি-মিসাইল সিস্টেম এবং গোলাবারুদ ছাড়া বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বারবার পশ্চিমা মিত্রদের কাছে সাহায্যের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ইউক্রেনের কাছে পর্যাপ্ত প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা না থাকা পর্যন্ত রাশিয়া শান্তি আলোচনার বিষয়ে গুরুত্ব দেবে না। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাতের অন্ধকারে ছোড়া রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটিও ঠেকানো সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা আকাশ, স্থল ও নৌ-ভিত্তিক অস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনা ও গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহান্তে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার জবাবে রাশিয়া এসব পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। ইউক্রেনের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মনে করছেন, আসন্ন শীতকালকে সামনে রেখে জনজীবন বিপর্যস্ত করার লক্ষ্যেই রাশিয়া এমন অবকাঠামোগত হামলা চালাচ্ছে।
হামলার শিকার এলাকার বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। সোলোমিয়ানস্কি জেলায় স্কুল ও হিটিং প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে শীতকালীন প্রস্তুতি নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, কিয়েভের আশপাশের ব্রোভারি ও বোরিস্পিল জেলায় আরও একজন নিহত ও সাতজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনের দনেৎস্ক অঞ্চলেও রুশ হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। আগামী শুক্রবার কিয়েভে সরকারিভাবে শোক দিবস পালন করা হবে।







