যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে, ইরানকে সহায়তা বা দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা যেকোনো দেশের ওপর তিনি ভয়াবহ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ইতিহাসে সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করতে যাচ্ছেন। এর মাধ্যমে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করাই তার মূল লক্ষ্য।
কেন এই সিদ্ধান্ত
ট্রাম্পের এই ঘোষণার আগে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি শেষ হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষে শুরু হওয়া সংঘাত নিরসনে এখন পর্যন্ত কোনো কূটনৈতিক বা সামরিক সমাধান না আসায় ট্রাম্প এই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে আসতে ব্যর্থ হয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি এই ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ বা অর্থনৈতিক দিবস ঘোষণা করেছেন।
নিষেধাজ্ঞার আওতা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে দিয়েছেন যে, কোনো দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থা যদি ইরানকে কোনো ধরনের জীবনরেখা প্রদান করে, তবে সেই দেশগুলোকেও চড়া মূল্য দিতে হবে। তিনি তেল চোরাচালান, নগদ অর্থ স্থানান্তর এবং ফ্রন্ট কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে লেনদেন অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
সংঘাত ও ভূ-রাজনীতি
সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির সঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক ও আর্থিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেওয়ার একদিন পরই ট্রাম্পের এই মন্তব্য এলো। আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সমুদ্রে পতিত হয়েছে। এদিকে, ওমান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলাদাভাবে আলোচনা চলায় সেই প্রক্রিয়ায় বাধা দিলে ওমানকেও বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প বলে খবর পাওয়া গেছে। হরমুজ প্রণালী নিয়ে এই দ্বন্দ্ব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দামের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে, কারণ এই পথ দিয়েই বিশ্বের ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি পরিবহন করা হয়।










