দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ বার্ষিক সামরিক মহড়া ছয় দিন কমিয়ে আনা হয়েছে। ওয়াশিংটনের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ শীর্ষক এই মহড়ার সময়সীমা ও পরিধি সমন্বয় করা হয়েছে। এর ফলে মহড়াটি ২৭ আগস্টের পরিবর্তে ২১ আগস্ট শেষ হবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এই মহড়ার সম্মিলিত ফিল্ড ট্রেনিংয়ের অংশও আংশিকভাবে কমানো হয়েছে। তবে এর সুনির্দিষ্ট বিস্তারিত এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের জন্য বিস্ময় নিয়ে এসেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন সংসদীয় শুনানিতে জানিয়েছেন, সামরিক মহড়া কমিয়ে আনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার কথা দক্ষিণ কোরিয়া বা মার্কিন কর্মকর্তাদের আগে থেকে জানা ছিল না।
এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি জাপান ও তাইওয়ানের মতো যুক্তরাষ্ট্রের অন্য মিত্র দেশগুলোর কাছেও ভিন্ন বার্তা পাঠাচ্ছে।
এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইরানের প্রসঙ্গ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি দক্ষিণ কোরিয়াকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক কার্যক্রমে সহায়তার অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এর জেরে তিনি মহড়া কমানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এদিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো-জং জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মহড়া কমানোর বিষয়টি খুব একটা গুরুত্ব পাওয়ার মতো নয়। তিনি আরও বলেন, মহড়ার আকার বা সময় কমালেও এর শত্রুভাবাপন্ন ও আগ্রাসী মূল চরিত্রের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছিল যে, এই মহড়ায় প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নেবে। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।









