জাম্বিয়ার রাজধানী লুসাকাসহ দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিকাইন্ডে হিচিলেমা বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। দেশটির নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, অর্ধেকের বেশি নির্বাচনী এলাকার ভোট গণনার পর হিচিলেমা প্রায় ৫৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন, যা তাকে প্রথম দফাতেই জয়ের পথে এগিয়ে রাখছে। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য কোনো প্রার্থীর ৫০ শতাংশের বেশি ভোটের প্রয়োজন হয়। হিকাইন্ডের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন পার্টি ফর ইউনিটি অ্যান্ড প্রসপারিটির (এনআরপিইউপি) ব্রায়ান মুন্দুবিলে এখন পর্যন্ত প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোট পেয়েছেন। চূড়ান্ত ফলাফল আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।
নির্বাচনী সহিংসতা ও অভিযোগ
এই নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনের দিন রাজধানী লুসাকার কাছে একজন পোলিং এজেন্ট নিহত হয়েছেন এবং এ ঘটনায় পুলিশ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার ভোট গণনার সময় সহিংসতার খবরে প্রায় ছয় ঘণ্টা গণনা কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক দল এই স্থগিতাদেশকে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে। এছাড়া পর্যবেক্ষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সরকারপক্ষের প্রতি পক্ষপাতিত্ব এবং নির্বাচনী প্রচারণায় সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহারের কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি ভারসাম্যহীন ছিল।
বিরোধী নেতার বাড়িতে হামলার দাবি
বিরোধী জোট এনআরপিইউপি দাবি করেছে, শুক্রবার রাতে সশস্ত্র ব্যক্তিরা বিরোধী নেতা ব্রায়ান মুন্দুবিলে বাড়িতে হামলা চালায়। দলটি জানিয়েছে, হামলাকারীরা গুলি ছুড়েছে এবং একজন সংসদ সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকজনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ব্রায়ান মুন্দুবিলে তার সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক মহলের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। যদিও জাম্বিয়া সরকার এখন পর্যন্ত এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। এর আগে প্রেসিডেন্ট হিচিলেমার দল ইউপিএনডি বিরোধীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী ফলাফলের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টার পাল্টা অভিযোগ তুলেছে।










