বাংলাদেশের ঢাকায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কার্যকর তদন্ত চলছে। রোববার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। দলটির বিরুদ্ধে আনা এই তদন্ত আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তদন্তের আইনি দিক তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার হলে তা একজন ব্যক্তির বিচারের মতোই হবে, কারণ আইন অনুযায়ী সংগঠনকেও একটি জুরিস্টিক পারসন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সংগঠনের ক্ষেত্রে কারাদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব না হলেও, তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা, আর্থিক জরিমানা করা কিংবা সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার মতো আইনি বিধান রয়েছে।
সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিষয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণিত হলে এবং ট্রাইব্যুনালের আদেশে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হলে তা সরকারের হেফাজতে চলে আসবে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি এবং দলের অন্যান্য কার্যালয়গুলো বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে, তাই এসব প্রপার্টিতে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড যেন না ঘটে, সেজন্য সরকার সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে পারে।
তদন্তের সময়সীমা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক সংগঠনের বিরুদ্ধে এ ধরনের তদন্তে অনেকগুলো বিষয় বিচার-বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয়। তাই তদন্ত শেষ হতে কতদিন লাগবে তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছিল। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আইনি প্রক্রিয়া নিয়েও প্রসিকিউটরের কার্যালয় কাজ করছে বলে তিনি জানান।










