দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ুং উত্তর কোরিয়ার সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। ১৫ আগস্ট লিবারেশন ডে বা মুক্তি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এই প্রস্তাব তুলে ধরেন, যা কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দেশ ১৯৫৩ সালে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও কোনো শান্তি চুক্তি না থাকায় তারা প্রযুক্তিগতভাবে এখনও যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে।
লি জে মিয়ুং সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনে একটি বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরির কথা বলেছেন। সেই সাথে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের কার্যকর উপায় নিয়ে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। তিনি বলেন, একে অপরকে হুমকি দেওয়া বন্ধ করে সরাসরি পক্ষ হিসেবে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ অবসানের আলোচনায় বসা উচিত।
পটভূমি
কোরীয় উপদ্বীপের এই দুই দেশের মধ্যে দশকের পর দশক ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সীমান্তে প্রায়ই সংঘাত এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল-এর সময় দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চললেও বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ুং সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন। গত জানুয়ারিতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়াকে তাদের প্রধান শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে পুন একত্রীকরণের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছিলেন।
উত্তর কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া
দক্ষিণ কোরিয়ার এই প্রস্তাবের বিপরীতে পিয়ংইয়ং এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। উত্তর কোরিয়া বরাবরই তাদের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি অব্যাহত রাখার অবস্থানে অটল রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে পিয়ংইয়ং প্রায়ই কঠোর সমালোচনা করে থাকে। উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও চালিয়েছে।









