ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে আঘাত হানা ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ভোরে ঘটা এই দুর্যোগের বিষয়ে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ১৫ কিলোমিটার গভীরে। উদ্ধারকারীরা এখন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ করছেন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্প ও পরবর্তী ৩৪১টি আফটারশকের কারণে ৯০০টিরও বেশি বাড়ি এবং কয়েকশ ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগ কবলিত এলাকাগুলোর মধ্যে মাঙ্গরাই প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে ২৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া পূর্ব মাঙ্গরাইয়ে ১৭ জন, সিক্কা প্রদেশে তিনজন এবং এনগাদা, এনদে ও পশ্চিম মাঙ্গরাই প্রদেশে একজন করে মোট ৪৭ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
উদ্ধার তৎপরতা
ভূমিকম্পের পর ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। তাদের জন্য ১০ হাজার ৫০০টি জরুরি ত্রাণ প্যাকেজ পাঠানো হয়েছে। দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় ধ্বংসযজ্ঞের পূর্ণ মাত্রা নিরূপণে সময় লাগছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। মাউমেরে বন্দরের টার্মিনাল ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে, যেখানে ফেরির অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা দুর্ঘটনার শিকার হন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
ইন্দোনেশিয়ার তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটি ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত, যাকে রিং অফ ফায়ার বলা হয়। শনিবারের ভূমিকম্পের পর সাময়িক সুনামির সতর্কতা জারি করা হলেও তিন ঘণ্টা পর তা তুলে নেওয়া হয়। তবে কিছু এলাকায় ভূমিধসের কারণে যাতায়াত ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীদের উপকূলীয় এলাকা থেকে দূরে থাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের কাছে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিএনপিবি।










