যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের কিংসপোর্ট শহরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন অন্য যেকোনো জায়গার তুলনায় বেশ প্রবল। ৫ হাজার ৮০০ মানুষের এই শহরে খ্রিস্টান ধর্মের প্রভাব যেমন গভীর, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতিতে ‘হলস্টন আর্মি অ্যামুনিশন প্ল্যান্ট’-এর অবদানও অনস্বীকার্য। এই কারখানাটি মূলত ইরান যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় প্যাট্রিয়ট মিসাইল ও ভারী অস্ত্রের বিস্ফোরক তৈরি করে।
বর্তমান ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা জাতীয় পর্যায়ে ৩২ শতাংশে নেমে এলেও কিংসপোর্টের বাসিন্দাদের মধ্যে তার আবেদন কমেনি। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, জাতীয়ভাবে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমলেও এখানকার বাসিন্দারা রক্ষণশীল আদর্শের কারণেই তাকে সমর্থন করে যাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা পাম রবিনসনের মতে, ইরান যদি পারমাণবিক বোমা তৈরি না করতে পারে তবে তিনি সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে। আবার প্রবীণ বাসিন্দা ও ভেটেরান জেমস ক্যাম্পার যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তাকে আরও কঠোরভাবে সমর্থন করেন। এখানকার অনেক বাসিন্দার মতে, ট্রাম্পের হাত অনেক ক্ষেত্রে কংগ্রেসের কারণে বাঁধা এবং তিনি একা সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারছেন না।
কিংসপোর্টের কর্মসংস্থানে এই অস্ত্র কারখানাটি বড় ভূমিকা রাখলেও, শহরটিতে রক্ষণশীল মতাদর্শের বাইরে অবস্থান নেওয়া কঠিন বলে মনে করেন অনেক বাসিন্দা। ইভানজেলিস্ট উইলিয়াম বোগলের ভাষায়, যারা রক্ষণশীল নন তাদের জন্য এই শহরে জায়গা হওয়া কঠিন। তবে শহরের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তা ও নারী অধিকার নিয়ে কিছুটা ভিন্নমত দেখা দিচ্ছে।
যদিও কিংসপোর্টে রক্ষণশীলদের আধিপত্য ও ট্রাম্পের প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্য অটুট, তবুও জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই জনপদটি এখনো রিপাবলিকানদের দুর্ভেদ্য ঘাঁটির মতোই টিকে আছে। স্থানীয় নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাটদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত সীমিত।










