ব্রাজিলের দুটি বড় অপরাধী সংগঠন প্রিমেইর কমান্ডো দা ক্যাপিটাল (পিসিসি) এবং কমান্ডো ভারমেলহো (সিভি)-কে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিক ও গবেষক রাফায়েল সাভকো গার্সিয়ার মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ব্রাজিলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নিজস্ব সংজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।
পিসিসি এবং সিভি দীর্ঘ সময় ধরে ব্রাজিলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এগুলোর কর্মকাণ্ড সাধারণত অপরাধমূলক এবং মুনাফাভিত্তিক, রাজনৈতিক নয়। সাধারণত রাজনৈতিক বা আদর্শিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার চেষ্টাকে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, কিন্তু এই গোষ্ঠীগুলোর মূল লক্ষ্য ক্ষমতার বিস্তার ও অর্থ উপার্জনে সীমাবদ্ধ।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এই ঘোষণা দেওয়ার জন্য এখনকার সময়কে বেছে নেওয়ায় এর রাজনৈতিক গুরুত্ব স্পষ্ট। ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর পরিবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ওয়াশিংটনকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো লুলাকে অপরাধী সংগঠনের প্রতি নমনীয় হিসেবে চিত্রিত করে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর এই তালিকাভুক্তির জন্য চাপ প্রয়োগ করেছিলেন।
এই ঘোষণার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রাজিলের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ, সম্পদ জব্দ এবং আর্থিক লেনদেনে কঠোর নজরদারি করার ক্ষমতা বাড়বে। এছাড়া, ব্রাজিলের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পিক্স (PIX) পেমেন্ট সিস্টেমের ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই নতুন সংজ্ঞার কারণে দুই দেশের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার দীর্ঘদিনের যৌথ তদন্ত কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ঐতিহাসিকভাবে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপের প্রবণতা নতুন নয়। স্নায়ুযুদ্ধের সময় কমিউনিজম দমনের অজুহাতে যে ধরনের হস্তক্ষেপ করা হতো, বর্তমানে সন্ত্রাসবাদ দমনের নামে একই ধরনের কৌশলে ব্রাজিলের মতো সার্বভৌম দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।









