তুরস্কের আঙ্কারায় আয়োজিত ন্যাটো সম্মেলন শেষে ফেরার পথে নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গোপনে তার বিমান পরিবর্তন করেছেন। এই ঘটনা নিশ্চিত করে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ৮ জুলাই তুরস্ক থেকে ফেরার সময় মূল বিমান থেকে বেরিয়ে তিনি গোপনে একটি সামরিক বিমানে ওঠেন। প্রেসিডেন্টকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে এই পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি একটি কেটারিং ট্রাকের সহায়তা নেন।
ঘটনার সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ট্রাম্পের মূল বিমানেই অবস্থান করছিলেন। নিরাপত্তার খাতিরে প্রেসিডেন্ট সেখানে না থাকলেও বিমানটি এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবেই বহাল রাখা হয়, যা কার্যত একটি ডিকয় বা ছদ্মবেশ হিসেবে কাজ করেছে।
কেন এই কৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল
প্রেসিডেন্টের উত্তরাধিকার ধারা বজায় রাখতেই রুবিও এবং বেসেন্টকে ওই বিমানে রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে। কোনো কারণে প্রেসিডেন্টের কিছু হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পর হাউসের স্পিকার এবং সিনেটের প্রেসিডেন্ট প্রো টেম্পোর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পান। এর পরের অবস্থানে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রী। তাই নিরাপত্তার প্রয়োজনে তাদের ওই বিমানে রাখা জরুরি ছিল।
নিরাপত্তা হুমকি ও সামরিক কৌশল
ট্রাম্প জানিয়েছেন, সামরিক বাহিনী এবং সিক্রেট সার্ভিস তাকে ভিন্ন বিমানে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। মার্কিন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ইরানের পক্ষ থেকে কাধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি ছিল। এছাড়া আঙ্কারায় অবস্থানকালে ট্রাম্পের হোটেল কক্ষ সম্পর্কে ইরানের কাছে গোয়েন্দা তথ্য থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছিল। যদিও সিআইএ এই হুমকিগুলোকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট।
এই ঘটনার সময় ওই বিমানে থাকা সাংবাদিক এবং কর্মকর্তারাও বিষয়টি জানতেন না। ট্রাম্পের এই বিমান পরিবর্তনের বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও তথ্যপ্রাপ্তির বিষয়ে স্বচ্ছ প্রটোকল দাবি করেছে।









