Home / আন্তর্জাতিক / সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের নিরাপত্তা জোটে মিশরের অন্তর্ভুক্তি ঠেকাল রিয়াদ

সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের নিরাপত্তা জোটে মিশরের অন্তর্ভুক্তি ঠেকাল রিয়াদ

সৌদি আরবের মক্কায় গত সপ্তাহে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়েছে, যেখানে মিশর অন্তর্ভুক্ত হতে চাইলেও সৌদি আরবের আপত্তির মুখে তা সফল হয়নি। সৌদি আরবের একাধিক সূত্রের দাবি, রিয়াদ আপাতত এই জোটে মিশরকে যুক্ত করতে আগ্রহী নয়। এই চুক্তি অনুযায়ী, এই তিন দেশের যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে তা সম্মিলিতভাবে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে।

মিশরের ওপর সৌদি আরবের আস্থার অভাবই এই বিরোধের মূল কারণ। মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসের সরকারের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘনিষ্ঠতা এবং ইয়েমেনসহ আঞ্চলিক নানা ইস্যুতে মিশরের ভূমিকা রিয়াদকে হতাশ করেছে। সৌদি সূত্রগুলো বলছে, ইয়েমেন যুদ্ধে হুথিদের মোকাবিলায় মিশর প্রত্যাশিত সমর্থন দেয়নি। এছাড়া আমিরাতের সঙ্গে কায়রোর নিবিড় সম্পর্ক এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক নীতি নিয়ে রিয়াদের উদ্বেগ রয়েছে।

তুরস্ক অবশ্য শুরু থেকেই মিশরকে এই জোটে নেওয়ার পক্ষে ছিল। আঙ্কারা মনে করে মিশর তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তুর্কি সূত্রগুলোর দাবি, তারা মিশরকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সক্রিয় উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে সৌদি আরব শেষ পর্যন্ত মিশরকে বাইরে রেখেই পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে চুক্তিটি চূড়ান্ত করে।

রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পাশাপাশি মিশরের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও সৌদি আরবের কিছু প্রশ্ন রয়েছে। তুরস্কের আধুনিক প্রতিরক্ষা শিল্প এবং পাকিস্তানের শক্তিশালী সামরিক কাঠামোর বিপরীতে মিশরীয় বাহিনীর কার্যকারিতা এবং সামরিক উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে রিয়াদের বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। যদিও সৌদি সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভবিষ্যতে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে মিশরকে জোটে নেওয়ার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *