নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুলে এসএসসির ফলাফলে শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জনের উৎসবের আড়ালে ২১৯ শিক্ষার্থীর ঝরে পড়া নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করা ৬০১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৩৮২ জন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। নির্বাচনি পরীক্ষায় বাদ দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকে শিক্ষাজীবন থেকে ছিটকে দেওয়ার এই অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।
বিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা নিজেদের সাফল্যের রেকর্ড ধরে রাখতে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনি পরীক্ষার প্রশ্ন কঠিন করে এবং খাতা মূল্যায়নে কঠোরতা অবলম্বন করে। এতে অনেক শিক্ষার্থী ফেল করায় তাদের ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এই কৌশলের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানটি এর আগেও বেশ কয়েকবার শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জনের খ্যাতি অর্জন করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ কামাল হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার কারণেই তারা নির্বাচনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এছাড়া কিছু শিক্ষার্থী পুনরায় পরীক্ষা দিয়েও কৃতকার্য হতে ব্যর্থ হয়েছে। বিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, অভিভাবকদের অঙ্গীকারনামা মেনেই তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, নির্বাচনি পরীক্ষায় পাস-ফেলের ভিত্তিতে ফরম পূরণ আটকানোর কোনো নিয়ম নেই। শুধুমাত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেই শিক্ষার্থীরা ফরম পূরণ করতে পারবে। এই নিয়ম অমান্য করে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছে বোর্ড। প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ বলেন, কোনো শিক্ষার্থী ফেল করলে তার দায় শিক্ষকের। পাঁচ বছর পড়ানোর পর নির্বাচনি পরীক্ষায় বাদ দিয়ে একজনের শিক্ষাজীবন নষ্ট করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ব্যবস্থা পরিবর্তন করে মূল্যায়নের পদ্ধতি ঢেলে সাজানোর ওপর জোর দেন তিনি।










