ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া শহরে রাশিয়ার হামলায় সাতজন নিহত ও অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। এই হামলায় মস্কো উত্তর কোরিয়ার তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এই ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এর মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতায় উত্তর কোরিয়ার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা ও বিশ্বব্যাপী এর প্রভাবের বিষয়টি সামনে এসেছে।
সোমবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি দাবি করেন, উত্তর কোরিয়ার সহায়তা ছাড়া রাশিয়ার পক্ষে এখন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কঠিন। তিনি বলেন, ইউক্রেনে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও সৈন্যের ব্যবহার তাদের কৌশলগত দুর্বলতাগুলো কাটাতে সহায়তা করছে, যা সারা বিশ্বের জন্য নতুন বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে তিনি তার দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
জাপোরিঝিয়ার আঞ্চলিক প্রধান ইভান ফেদোরভ জানিয়েছেন, রুশ হামলায় জাপোরিঝস্তাল মেটালার্জি প্ল্যান্টের সাত কর্মী নিহত হয়েছেন। হামলার পর প্ল্যান্টটি তাদের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। এছাড়া রাজধানী কিয়েভের উপকণ্ঠে রুশ ড্রোন হামলায় একটি শিশু হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশ কিছু স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সুমি শহরেও রাশিয়ার গ্লাইড বোমা হামলায় একজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন।
এদিকে ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণে রাশিয়ার ভরোনেজ অঞ্চলে অবস্থিত অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াইল্ডবেরিজ’-এর একটি লজিস্টিক সেন্টারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার ও লজিস্টিক হাব লক্ষ্য করে গভীর হামলা জোরদার করেছে। রাশিয়ার তাতারস্তানে ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহতের রেশ না কাটতেই নতুন করে এই হামলার ঘটনা ঘটল।
ইউক্রেনের সামরিক সূত্রের দাবি, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত কয়েক ডজন উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র তাদের ভূখণ্ডে নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া। এছাড়াও ইউক্রেন সতর্ক করেছে যে, প্রায় ৫০ হাজার উত্তর কোরিয়ার সৈন্য রুশ বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রবেশ ঠেকাতে প্রায় ১১ হাজার উত্তর কোরিয়ার সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছিল।









