বাংলাদেশের নওগাঁর মান্দা আমলী আদালত-২-এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সালমান আহমেদ শুভর আদালতে ১৯ দিন পর দুই বছরের শিশু লামিয়াকে তার মা চাঁদনী খাতুনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। যৌতুকের দাবিতে মারধর ও নির্যাতনের পর গৃহবধূকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনায় আদালতের মাধ্যমে এই শিশু ফিরে পাওয়ার ঘটনাটি ঘটেছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মান্দার তেঁতুলিয়া গ্রামের রাসেল মাহমুদের সঙ্গে চাঁদনী খাতুনের বিয়ে হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই স্বামী রাসেল ও তার বাবা-মা দুই লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে চাঁদনীকে শারীরিক নির্যাতন করে আসছিলেন। গত ২০ জুলাই যৌতুকের টাকার জন্য তাকে মারধরের পাশাপাশি গরম লোহার রড দিয়ে হাতে ছ্যাঁকা দেওয়া হয় এবং শিশু লামিয়াকে কেড়ে নিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে চাঁদনী খাতুন তার বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। সংসার টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনে তার পরিবার সমঝোতার চেষ্টা করলেও স্বামী দুই লাখ টাকা ছাড়া সংসার করতে অস্বীকার করেন। এরপর গত ৩০ জুলাই গৃহবধূ বাদী হয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ ১৯ দিন পর সন্তানকে কাছে পেয়ে চাঁদনী খাতুন বলেন, গত ২০ জুলাই থেকে স্বামী ও তার পরিবার আমাকে মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি। বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হই। আদালতের আদেশে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মেয়েকে ফিরে পেয়েছি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মান্দা থানার উপপরিদর্শক মো. জাকিরুল ইসলাম জানান, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









