কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সামারল্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। দাবানলটি শুক্রবার শনাক্ত হওয়ার পর থেকে আকারে দ্বিগুণ হয়ে প্রায় ১৩৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় সামারল্যান্ড শহরের মেয়র ডগ হোমসের সতর্কবার্তায় স্থানীয়দের যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই দাবানলটি এতটাই শক্তিশালী যে তা নিজস্ব আবহাওয়া ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যা বজ্রপাত সৃষ্টি করছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মেডো ভ্যালি এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় ৮০ বছর বয়সী এক নারী মারা গেছেন। তার মৃত্যু দাবানলের কারণেই হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। দাবানলের তীব্রতায় সামারল্যান্ড ও পিচল্যান্ডসহ আশপাশের এলাকা থেকে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দাবানলটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে নাটকীয়ভাবে তীব্র আকার ধারণ করে। সামারল্যান্ডের বাসিন্দা কিগান রাডোমস্কি জানিয়েছেন, নিজের বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি পাহাড়ের চূড়ায় আগুনের লেলিহান শিখা দেখেছেন। অনেক প্রতিবেশী তাদের ঘরবাড়ি পুড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রিমিয়ার ডেভিড ইবি এই দাবানলকে একটি ‘বিস্ফোরণের’ সাথে তুলনা করেছেন। তিনি জানান, অনেক ঘরবাড়ি ও সম্পদ ধ্বংস হয়েছে এবং অনেক মানুষ আটকা পড়েছিল। জরুরি অবস্থা জারির ফলে এখন প্রাদেশিক সরকার বিশেষ ক্ষমতার আওতায় যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ, নিত্যপণ্যের দাম নজরদারি ও উদ্ধারকাজে বাড়তি সংস্থান ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
সামারল্যান্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে যারা বৃদ্ধাশ্রমে ছিলেন, তাদেরও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কৃষিখামারের অনেক গবাদিপশু ও ঘোড়া উদ্ধারে মালিকরা হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকে প্রাণীদের বাঁচাতে তাদের খোলা জায়গায় ছেড়ে দিয়েছেন। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তবে কতগুলো ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।









