বাংলাদেশের ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ইয়াবাসহ আটক এক ব্যক্তিকে আইনের সহজ ধারায় আদালতে চালানের আশ্বাস দিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে উপপরিদর্শক (এসআই) তরিকুল ইসলামকে জেলা পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। রোববার বিকেলে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত ৫ আগস্ট বিকেলে শৈলকুপার ভগবাননগর গ্রামের বিপুল হোসেনকে ৫০ পিস ইয়াবাসহ আটক করেন এসআই তরিকুল ইসলাম। অভিযোগ অনুযায়ী, বিপুলকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সহজ ধারায় আদালতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন তিনি। পরে বিপুলের পরিবারের কাছ থেকে নগদ ১২ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয় এবং বাকি ৮ হাজার টাকা থানায় পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অডিওর বিষয়বস্তু
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও ক্লিপে শোনা যায়, এসআই তরিকুল পরিবারের সদস্যদের বলছেন, ১২ হাজার টাকা নগদ দিতে এবং বাকি ৮ হাজার টাকা থানায় নিয়ে আসতে। তিনি দাবি করেন, বিপুলকে মাদক আইনের ৩৪ ধারায় চালান দেওয়া হবে, যাতে কোর্টে গেলেই জামিন পাওয়া যায়। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও বিপুলকে কঠোর ধারায় আদালতে চালান দেওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার ঘুষের টাকা ফেরত চাইতে গেলে এসআই তরিকুল সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই তরিকুল ইসলাম তা অস্বীকার করেন এবং পরে একাধিকবার ফোনকল কেটে দেন। শৈলকুপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, অডিও ক্লিপটি নজরে আসার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশে এসআই তরিকুলকে ক্লোজড করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










