রাশিয়ার ইয়ারোস্লাভল ও বাশকর্তোস্তান অঞ্চলে ইউক্রেনের হামলায় দুটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার যুদ্ধের অর্থায়ন সীমিত করার লক্ষ্যে বাশনেফট-নোভোইল এবং স্লাভনেফট-ইয়ানোস তেল শোধনাগারে এই হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলা গুরুত্বপূর্ণ কারণ, এর মাধ্যমে মস্কোর তেল রাজস্ব আয়ের পথ বন্ধ করার চেষ্টা করছে কিয়েভ।
হামলার বিবরণ
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, বাশনেফট-নোভোইল শোধনাগারটি ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। স্লাভনেফট-ইয়ানোস শোধনাগারটি সীমান্ত থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ইয়ারোস্লাভলের আঞ্চলিক গভর্নর মিখাইল ইভরায়েভ জানিয়েছেন, ড্রোন হামলার পর স্লাভনেফট-ইয়ানোস শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে এবং চারজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ওই অঞ্চলে ৯৩টি ড্রোন ভূপাতিত করা হলেও ধ্বংসাবশেষের আঘাতে স্টোরেজ ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কৃষ্ণসাগরে অভিযান
তেল শোধনাগারের পাশাপাশি কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার দুটি সামরিক টহল বোট এবং অবৈধভাবে তেল রপ্তানিতে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া নৌবহরের জাহাজগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেছেন, এই হামলাগুলো রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করে কূটনীতির পথ প্রশস্ত করছে।
পাল্টা হামলা ও হতাহত
এদিকে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। খারকিভ অঞ্চলের বালাকলিয়া শহরে ড্রোন হামলায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। লোজোভা রেলস্টেশনে হামলায় আরও দুজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। এছাড়া দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন। দক্ষিণের শহর খেরসনে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে পুরো শহর। ওদেসায় দুটি কার্গো জাহাজ লক্ষ্য করে রাশিয়ার হামলায় একজন নিহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি
রাশিয়া দাবি করেছে, তারা রাতভর ইউক্রেনের ৬০৫টি ড্রোন প্রতিহত বা ভূপাতিত করেছে। এছাড়া ইউক্রেনের জ্বালানি, পরিবহন ও ড্রোন সংরক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে উভয় পক্ষই এখন শহর ও জ্বালানি অবকাঠামোকে মূল লক্ষ্যবস্তু করে অভিযান জোরদার করেছে, যেখানে কোনো পক্ষই এখনো বড় ধরনের সামরিক সাফল্যের মুখ দেখেনি।









