Home / আন্তর্জাতিক / দেশজুড়ে শাটডাউনের ডাকে থমথমে জিম্বাবুয়ের হারারে

দেশজুড়ে শাটডাউনের ডাকে থমথমে জিম্বাবুয়ের হারারে

জিম্বাবুয়ের হারারেতে সংবিধান সংশোধনবিরোধী শাটডাউনের আহ্বানের প্রেক্ষিতে শুক্রবার শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জনজীবনে স্থবিরতা লক্ষ্য করা গেছে। দেশটির বিরোধী দল এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের ভাষ্যমতে, বর্তমান সরকারের গৃহীত এই সাংবিধানিক পরিবর্তনগুলো প্রেসিডেন্ট এমারসন মানগাগওয়ার ক্ষমতা ২০৩০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করার পথ প্রশস্ত করবে। এই শাটডাউনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে বড় ধরনের বিক্ষোভের আশঙ্কায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল।

শহরের চিত্র

শুক্রবার সকালে রাজধানী হারারের রাস্তায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যান চলাচল ছিল অত্যন্ত কম। কর্মদিবস হওয়া সত্ত্বেও নিত্যদিনের ব্যস্ততা ছিল অনুপস্থিত। শহরের প্রাণকেন্দ্রে সাধারণ দিনের তুলনায় জনসমাগম কম ছিল এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশি টহল ও জলকামানবাহী গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। একটি জনপ্রিয় পার্কে প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়, যেখানে আগে বড় ধরনের জমায়েত অনুষ্ঠিত হতো। অনেক দোকানপাট বন্ধ ছিল, তবে দুপুরের দিকে শহরটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করে।

সংবিধান সংশোধনের বিতর্ক

জুলাই মাসে জিম্বাবুয়ের পার্লামেন্টে পাস হওয়া নতুন আইনে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২৮ সালের পরিবর্তে ২০৩০ সালে নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ও সংসদীয় মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে সাত বছর করা হয়েছে। এছাড়া জনগণের সরাসরি ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরিবর্তে পার্লামেন্ট সদস্যদের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, এই পরিবর্তনগুলো গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতাকে দুর্বল করবে। অন্যদিকে সরকারি দল জানু-পিএফ (ZANU-PF) দাবি করেছে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেই নির্বাচনী চক্রে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি

দিনভর হারারে শান্ত থাকলেও সংবিধান সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক থামেনি। বিরোধী দল ও অ্যাক্টিভিস্টরা এই পরিবর্তনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সাংবিধানিক আদালতে মামলা করেছেন। সরকার এই পরিবর্তনকে রাজনৈতিক উত্তজনা কমানোর উপায় হিসেবে বর্ণনা করলেও, জিম্বাবুয়ের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করা অনেকেই এটিকে গণতান্ত্রিক আদর্শের পরিপন্থী বলে মনে করছেন। বিকেলের দিকে হারারেতে জনজীবন অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এলেও এই আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক উত্তজনা অব্যাহত রয়েছে।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *