যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যদি ইরানের সঙ্গে দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়, তবে তিনি দেশটিতে সম্ভাব্য সামরিক হামলা বাতিল করবেন। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের পক্ষ থেকে তাকে অনুরোধ করা হয়েছে যেন তিনি কোনো হামলা না করেন। তিনি জানান, আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তির কাঠামো নিয়ে ইতোমধ্যেই ঐকমত্য হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে বলে যে খবর ছড়িয়েছিল, তার প্রেক্ষিতেই ট্রাম্পের এই বক্তব্য এল।
তবে ইরান এখন পর্যন্ত নতুন কোনো আলোচনার অনুরোধ বা চুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে উভয় পক্ষই নিয়মিত পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে আসছে। ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মজিদ ইবনে আল-রেজা জানিয়েছেন, তেহরান তাদের প্রতিপক্ষ প্রতিটি হুমকিকে বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য হিসেবেই বিবেচনা করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই ইরান আত্মরক্ষার প্রস্তুতি নিতে ভুল করবে না এবং তারা নিষ্ক্রিয় থাকবে না।
ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের নেপথ্যে রয়েছে তার কথিত ‘ম্যাডম্যান থিওরি’, যার মাধ্যমে তিনি সামরিক শক্তির ভয় দেখিয়ে আলোচনার টেবিলে প্রতিপক্ষকে আনার কৌশল গ্রহণ করেন। এর আগে গত এপ্রিলে তিনি যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দিলে পাকিস্তানে বিরল সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত কোনো কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।
এদিকে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন। সৌদি আরবের সরকারি বার্তা সংস্থা এসপিএ-র তথ্যমতে, যুবরাজ আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সংলাপ এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, সংঘাত বাড়লে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জ্বালানি কেন্দ্রগুলো ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি হামলায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬০ শতাংশ নাগরিক ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন না, যা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং জনমতের চাপ প্রেসিডেন্টকে তার আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বাধ্য করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।










