যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মনোনীত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চের নিয়োগ নিশ্চিত করতে বিরোধীদের ওপর চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে বিতর্কিত ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন’ তহবিলটি পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, যদি তার মনোনীত প্রার্থী টড ব্ল্যাঞ্চের নিয়োগ সিনেটে অনুমোদিত না হয়, তবে তিনি এই তহবিল পাসের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবেন। এই তহবিলটিকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকান সিনেটরদের সাথে প্রেসিডেন্টের চলমান বিরোধ ব্ল্যাঞ্চের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তহবিল নিয়ে বিরোধের কারণ
১.৭৭৬ বিলিয়ন ডলারের এই তহবিলটি ট্রাম্পের আগের মেয়াদে আইআরএস-এর সাথে এক বিতর্কিত নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল বাইডেন প্রশাসনের সময় রাজনৈতিক হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করা। তবে সমালোচকদের মতে, এই অর্থ ট্রাম্পের রাজনৈতিক মিত্রদের সুবিধা দিতে ব্যবহৃত হতে পারে। দুই রিপাবলিকান সিনেটর জন কর্নিন এবং থম টিলিস ব্ল্যাঞ্চের নিয়োগ আটকে দিয়েছেন, কারণ তারা নিশ্চিত হতে চান যে এই তহবিলটি আর কোনোভাবেই পুনরুজ্জীবিত করা হবে না।
ব্ল্যাঞ্চের নিয়োগ ও ট্রাম্পের অবস্থান
বর্তমানে টড ব্ল্যাঞ্চ অন্তর্বর্তীকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্ল্যাঞ্চ নিজে তহবিলটি ‘বন্ধ’ বলে দাবি করলেও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই আশ্বাসের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, সিনেট নিয়োগ না দিলে তিনি ব্ল্যাঞ্চকে সরাসরি ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে রেখে দেবেন এবং আইনসভার মাধ্যমে তহবিলটি পাসের চেষ্টা করবেন।
রাজনৈতিক সংকট
সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটি ব্ল্যাঞ্চের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছে। ট্রাম্প সরাসরি সিনেটর কর্নিন ও টিলিসের সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন যে, তাদের ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকেই এই নিয়োগ আটকে রাখা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই তহবিলটি আইনত এবং রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সমালোচকদের আশঙ্কা, ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল দাঙ্গা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুরক্ষায় এই অর্থ ব্যবহার করা হতে পারে, যা আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করেছে।










