বাংলাদেশের সিলেটের জৈন্তাপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক পথসভায় দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বর্তমান সরকারের সংস্কারবিরোধী অবস্থান ও দমনপীড়নের তীব্র সমালোচনা করেছেন, যা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুক্রবার রাতে আয়োজিত এই সভায় তিনি দাবি করেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে প্রতারণা এবং সংসদে সংস্কার প্রস্তাবনা এড়াতে সংশোধন কমিটি গঠনের দিনই সরকারের বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে।
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুরে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’র সমাপনী সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ একটি সুন্দর ও গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছিল, যেখানে কোনো পেশিশক্তি বা ভোট কেনাবেচা থাকবে না। কিন্তু যাদের বিশ্বাস করা হয়েছিল, তারা জনগণের জন্য প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর স্থিতিশীলতার আশা করা হলেও ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু হয়েছে। সংসদে সংস্কার প্রস্তাবনা পাশে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং ভাইদের খুনিদের সংসদে উপস্থিত করা হয়েছে, যা জনগণের হৃদয়ে রক্তক্ষরণের সৃষ্টি করেছে। ১৪০০ মানুষের জীবনের বিনিময়ে যে সংস্কার প্রস্তাব তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হলে দেশের সব শ্রেণির মানুষের কর্মসংস্থান ও কল্যাণ নিশ্চিত হতো। কিন্তু তারেক রহমান দেশে ফিরে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করেছেন এবং তার উপদেষ্টার মাধ্যমে সংশোধন কমিটি গঠন করেছেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তরুণদের ভাগ্য ও নারীদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং আলেমদের সঙ্গে গাদ্দারি করা হয়েছে। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করা হলে সরকার সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। যেখানে শেখ হাসিনার সন্ত্রাসের পথ বেছে নিতে ১০ বছর সময় লেগেছিল, সেখানে এই সরকারের সময় লেগেছে মাত্র পাঁচ মাস।
গদি টিকিয়ে রাখতে ছাত্রদলকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, কাউকে হত্যা করে বা মুখ বন্ধ করে ক্ষমতা ধরে রাখা যাবে না। এই গদি কোনো একক ব্যক্তির নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের। শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি এবং বাস ও টেম্পু স্ট্যান্ড দখল করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, জিয়া পরিবারের নাম ভাঙিয়ে বাংলাদেশে আর কোনো অপকর্ম বা ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না।










