বাংলাদেশের চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় কাঁচামালের তীব্র সংকট ও ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকায় এস আলম গ্রুপের সব কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে কয়েক হাজার শ্রমিক-কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। গ্রুপটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও কারখানা সংশ্লিষ্টরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন, যার ফলে দেশের অন্যতম বড় এই শিল্পগ্রুপের হাজার হাজার কর্মী হঠাৎ কর্মহীন হয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে এস আলম স্টিল, চেমন ইস্পাত লিমিটেড, এস আলম ব্যাগ, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড, এস আলম পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড, ইনফিনিটি সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড এবং এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড-এনওএফ। এসব কারখানার বেশিরভাগই দক্ষিণ চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কর্ণফুলী উপজেলায় অবস্থিত এসব কারখানায় কর্মরত অন্তত সাড়ে চার হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্থ কর্মীদের সিংহভাগই স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা। শুধু কর্ণফুলী উপজেলাতেই নয়, এস আলম গ্রুপের দেশব্যাপী বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত কর্মীদেরও পর্যায়ক্রমে ছাঁটাই করা হয়েছে বলে গ্রুপটির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া
গত ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের নোটিশ বোর্ডে প্রথম ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় ১ আগস্ট থেকে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
এই বিষয়ে এস আলম সুগার মিলের শিফট ইনচার্জ প্রকৌশলী মো. হাসমত আলী জানান, কাঁচামালের তীব্র সংকটের কারণে গত দুই বছর ধরে তাদের কারখানায় কোনো উৎপাদন ছিল না। দীর্ঘ সময় কোনো কাজ ছাড়াই মালিকপক্ষ নিয়মিত বেতন পরিশোধ করলেও শেষ পর্যন্ত লোকসান এড়াতে তারা কর্মীদের বিদায় দিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে ছাঁটাই হওয়া ৩৮৬ জন কর্মীকে তাদের অবসর ভাতাসহ সব পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সংকটের মূল কারণ
এস আলম গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ থাকা এবং এলসি বা ঋণপত্র খুলতে না পারার কারণে তারা কারখানাগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি করতে পারছিলেন না। দীর্ঘদিন ধরে কারখানাগুলো অনানুষ্ঠানিক উপায়ে কোনো রকমে সচল রাখা হলেও প্রতিদিন বিপুল অংকের আর্থিক লোকসান বৃদ্ধি পাচ্ছিল।
তারা আরও জানান, কোনো ব্যাংক থেকে এলসি খোলার সহযোগিতা না পাওয়ায় অবশেষে কর্ণফুলী এলাকার সব কারখানার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয় গ্রুপটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়।










