লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ঐতিহাসিক ইউনেস্কো স্বীকৃত বোফোর্ট দুর্গের কাছে ব্যাপক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যেও দেশটির সার্বভৌমত্ব ও ঐতিহাসিক নিদর্শনকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে বলে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা (এনএনএ) এবং ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহর অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বোফোর্ট এলাকায় প্রায় ৭০০ টন বিস্ফোরক ব্যবহার করে একটি সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়েছে।
এনএনএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যরাতে ঘটানো এই শক্তিশালী বিস্ফোরণের ধাক্কায় সংলগ্ন কালাইয়া শহরের বেশ কিছু বাড়িঘরের জানালার কাচ ভেঙে গেছে। পুরো এলাকার বাসিন্দারা তীব্র কম্পন অনুভব করেছেন। মধ্যযুগীয় ক্রুসেডার আমলের এই বোফোর্ট দুর্গটিকে গত সপ্তাহেই ইউনেস্কোর ঝুঁকিতে থাকা বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
বিস্ফোরণের ব্যাপ্তি শুধু বোফোর্টেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ইসরায়েলি বাহিনী টায়ার জেলার আল-মানসুরি এবং মাজদাল জুনের আশপাশের বেশ কিছু ঘরবাড়ি ও গুহা লক্ষ্য করে কামানের গোলাবর্ষণ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। এছাড়া ইয়হমোর আল-শাকিফ, আরনুন এবং কাফর তিবনিত এলাকায় মধ্যরাতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, যার আওয়াজ দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে শোনা গেছে।
ওয়াশিংটনে গত ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও এই হামলাগুলো চালানো হচ্ছে। এ নিয়ে লেবাননের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এদিকে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন আঙ্কারায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আউন বলেন, “আমরা লেবাননের সমস্ত ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” এরদোয়ানও লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং দক্ষিণ লেবানন পুনর্গঠনে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে লেবাননের দ্রুজ নেতা ওয়ালিদ জুম্বলাত এই চুক্তির সমালোচনা করে বলেছেন, চুক্তিতে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের বাধ্যবাধকতা নেই, বরং কেবল ‘পুনর্বিন্যাস’-এর কথা বলা হয়েছে, যা একটি বড় ফাঁদ।
উল্লেখ্য, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনী ইতিমধ্যে ১০ কিলোমিটারেরও বেশি ভেতরে প্রবেশ করেছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৪,৩৩৩ জন নিহত এবং ১২,২৩৬ জন আহত হয়েছেন।










