Home / জাতীয় / ঢাকায় কافরুল থানায় জিয়া উদ্যানে ফিরায় দুই তরুণ হাজতে, ফোনকলে ১০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

ঢাকায় কافরুল থানায় জিয়া উদ্যানে ফিরায় দুই তরুণ হাজতে, ফোনকলে ১০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

বাংলাদেশের ঢাকায় কাফরুল থানায় জিয়া উদ্যানের পাশ থেকে বাসায় ফিরছিলেন বলে অভিযোগ করা দু’জন তরুণকে রাতে হাজতে রাখা হয় এবং পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলার জন্য থানার এক পুলিশ সদস্য ১০০ টাকা নেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন; এই ঘটনা পুলিশের আচরণ ও দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয় বলে তারা জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী রাফসান আহমেদ সিয়াম ও হৃদয় নামের তরুণরা জানান, তারা কুমিল্লা ও রংপুর থেকে ঢাকায় এসে বন্ধু ও পারিবারিক কাজ সারার উদ্দেশ্যে ছিলেন। রাতে ফেরার পথে পুলিশ তাদের আটক করে।

রাফসান সিয়াম দাবি করেন, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত আনুমানিক রাত ১২টা ১৫ মিনিটে চা খেয়ে সংসদ ভবনের পেছনের সড়ক দিয়ে ফার্মগেটের দিকে যাচ্ছিলেন। ওই সময় ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা তাদের পথরোধ করে রাত এত জারায় ওই রাস্তায় কেন যাচ্ছেন জানতে চান।

সিয়াম বলেন, তারা বলেন বাসায় যাচ্ছেন এবং নতুন বলে রাস্তা জানেন না। পরে পুলিশ তাদের অনেকক্ষণ দাঁড় করিয়ে রেখে তল্লাশি করে। তল্লাশিতে তাদের কাছে কোনো অবৈধ বস্তু পাওয়া যায়নি বলেও তিনি জানান।

ভুক্তভোগীদের কথায়, হাতকড়া পরিয়ে গাড়িতে তোলা হয় এবং পরে কাগজে নাম-ঠিকানাসহ পরিচয় লিখিয়ে কাফরুল থানায় নেয়া হয়। রাতেই তাদের সেলে রাখা হয়। সিয়াম আরও বলেন, ‘বড় স্যারের সঙ্গে কথা বলিয়ে আবার নামিয়ে দেওয়া হবে’ বলে জানিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু বড় স্যার চলে যাওয়ায় সকালে কথা হবে বলে বলা হয় এবং রাত কাটাতে হয় থানার সেলে।

হৃদয় অভিযোগ করেন, থানায় থাকা অবস্থায় পরিবারকে ফোন করার সুযোগের বিনিময়ে থানার একজন পুলিশ সদস্য তাদের কাছ থেকে ১০০ টাকা নেয়। এছাড়া পরে তাদের অভিভাবকরা থানায় এসে এক হাজার টাকা করে দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান বলেও তারা জানায়।

সিয়াম হাজতের পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, রাতে প্রায় ২১ জনের মতো ছিলেন। ঠিকমতো ঘুমানো যায়নি এবং রাতের খাবারও তিনি খেতে পারেননি, শুধুমাত্র সকালে নাস্তা পেয়েছিলেন।

সরেজমিনে দেখা যায় কাফরুল থানার চত্বরে ভাঙাচোরা ও জব্দ করা গাড়ির স্তূপ রাখা আছে এবং সেবারত মানুষের সংখ্যা খুবই কম। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেছেন, থানায় যেটা প্রয়োজন তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, তবে কিছু সমস্যা থাকতেই পারে। তিনি বলেন, ‘আমাদের আসামি ধরার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। আমরা অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী ও চাঁদাবাজদের ধরছি।’

আটক আসামিদের ফোনকলের সুযোগের বিনিময়ে ১০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উল্লেখ করে ওসি বলেন, তার কাছে এমন কোনো অভিযোগ এখনও পৌঁছায়নি; এধরনের অভিযোগ এলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।

কোর্ট-পর্দা না হলে আলামত হিসেবে গাড়িগুলো থানায় রাখা হয়—এমনটাই ওসি জানান। মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. মোস্তাক সরকারের বক্তব্যের জন্য বারবার যোগাযোগ করা হলেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

কাফরুল থানা থেকে কতজন গ্রেফতার করা হচ্ছে তা সম্পর্কে দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন যে দৈনিক সাত থেকে দশ জন গ্রেফতার করা হয়।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *