ফ্রান্সের প্যারিসের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরতলির কলম্বসে জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মডেলিং স্কাউট ড্যানিয়েল সিয়াডের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ৬৯ বছর বয়সী এই ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টি নানতেরে প্রসিকিউটর অফিস নিশ্চিত করেছে। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ড্যানিয়েল সিয়াড বহু বছর ধরে বিভিন্ন অভিযোগের মুখে ছিলেন। মার্কিন সরকারের প্রকাশিত এপস্টাইন নথিপত্রে তার নাম হাজারবার উঠে এসেছে। ফ্রান্সের বিভিন্ন ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছিলেন। তবে সিয়াড বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার আইনজীবী মেনিয়া আরব-তিগ্রিন দাবি করেছেন যে, সিয়াড নির্দোষ ছিলেন এবং তাকে কখনো আইনি বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি।
এপস্টাইনের শিকার হওয়া এক ভুক্তভোগী বিবিসিকে জানিয়েছেন, সিয়াড তাকে এপস্টাইনের কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। সিয়াডকে তিনি মূলত একজন মানব পাচারকারী হিসেবে অভিহিত করেছেন। যদিও সিয়াড বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন যে, এপস্টাইন নারীদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছেন তা তিনি জানতেন না।
সিয়াডের মৃত্যুর খবরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা ভুক্তভোগীদের আইনজীবীরা গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আইনজীবীদের মতে, সিয়াডের মৃত্যুর ফলে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ হারিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেছেন যে, ফরাসি প্রসিকিউটর অফিস সময়মতো তদন্ত সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে জেফরি এপস্টাইনের আরেক সহযোগী এবং মডেলিং এজেন্ট জঁ-লুক ব্রুনেলকে প্যারিসের কারাগারে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। তাকে নাবালিকা ধর্ষণ ও পাচারের অভিযোগে তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছিল। মূল অভিযুক্ত জেফরি এপস্টাইন ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের কারাগারে আত্মহত্যা করেন।










