মার্কিন বাহিনীর নতুন হামলার জবাবে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। তেহরান রবিবার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করার পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
সংক্ষেপে যা জানা গেছে
- ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে।
- প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল পরিবহনের পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে।
- একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলার পর মার্কিন বাহিনী নতুন করে তেহরানের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
- আক্রান্ত বাণিজ্যিক জাহাজটি কর্মীরা পরিত্যক্ত অবস্থায় রেখে যাওয়ায় সেটি আগুনে জ্বলছে।
- এই ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পূর্ণমাত্রার সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের ওপর মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। রবিবার সকালে ইরান ঘোষণা করে যে, তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এর কিছু সময় পরই প্রতিবেশী দেশগুলোর বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে তারা ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে।
এই উত্তজনা শুরুর পেছনে মূল কারণ ছিল একটি বাণিজ্যিক জাহাজ। ইরানি বাহিনী প্রথমে ওই জাহাজে হামলা চালায়, যার ফলে জাহাজটির কর্মীরা সেটিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় রেখে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে যায়। জাহাজটিতে তখন দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল। এই ঘটনার পরপরই মার্কিন সামরিক বাহিনী পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের ওপর আক্রমণ চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় ইরান এই সর্বাত্মক পাল্টা হামলার ঘোষণা দেয়।
বিশ্লেষণ
বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ঝুঁকির বার্তা দিচ্ছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট। এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়া, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার এই সরাসরি সামরিক সংঘাত দীর্ঘদিনের ছায়াযুদ্ধকে এখন নতুন রূপ দিয়েছে। ইরান তাদের প্রতিবেশী দেশগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করে আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর চাপ প্রয়োগের কৌশল গ্রহণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদি এই সংঘাত দ্রুত প্রশমিত না হয়, তবে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি একটি বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন চরম উদ্বেগের সঙ্গে এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের জন্য চাপের মুখে রয়েছে।
সূত্র: rfi.fr










