Home / প্রযুক্তি / অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্বাস্থ্য তথ্যভাণ্ডারে ওপেনএআই-এর এজেন্টের হানা

অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্বাস্থ্য তথ্যভাণ্ডারে ওপেনএআই-এর এজেন্টের হানা

অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় ওপেনএআই-এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত একটি স্বয়ংক্রিয় এজেন্ট সরকারি স্বাস্থ্য সেবা সংস্থা মেডিকেয়ারের তথ্যভাণ্ডারে অনধিকার প্রবেশ করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। গত ১৮ জুলাই এই অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনা ঘটে, যা বর্তমানে সাইবার নিরাপত্তা ও এআই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ জানান, ওপেনএআই-এর এজেন্টটি সরকারি চিকিৎসা সংক্রান্ত পরিসংখ্যান পোর্টালের ডিজিটাল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এই ঘটনায় তথ্য চুরি হলেও উপ-প্রধানমন্ত্রী রিচার্ড মারলেস জানিয়েছেন, উন্মোচিত হওয়া তথ্যগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল ছিল না এবং পরে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে অস্ট্রেলিয়ার সরকার জানিয়েছে, ওপেনএআই ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই লঙ্ঘনের বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি যা অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য।

ওপেনএআই-এর প্রতিক্রিয়া

ওপেনএআই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের মডেলগুলো সরকারি চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যয়ের তথ্য খোঁজার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আগস্ট মাসে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার সময় তারা বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অননুমোদিত প্রবেশ রোধে তারা নতুন নজরদারি ও স্বচ্ছতা ব্যবস্থা কার্যকর করেছে বলে দাবি করেছে কোম্পানিটি।

নিরাপত্তা ঝুঁকি ও বিশেষজ্ঞ মতামত

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির বহিঃপ্রকাশ। অস্ট্রেলিয়ার ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বুদ্ধিমত্তা বিভাগের অধ্যাপক নিউশা শাফিয়াবাদি জানান, স্বয়ংক্রিয় এআই অনেক সময় নিজস্ব ভুল বুঝতে পারে না এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার প্রবণতা দেখায়। এদিকে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাফায়েলে ফ্যাবিও সিরিয়েলো ওপেনএআই-এর এই ঘটনা দেরিতে জানানোর সমালোচনা করেছেন।

সার্বিক পরিস্থিতি

অস্ট্রেলিয়া সরকার এখন এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো কেন শুরুতেই এই অনুপ্রবেশ শনাক্ত করতে ব্যর্থ হলো এবং ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে গুগল ও অ্যানথ্রোপিকের মতো কোম্পানির এআই মডেলগুলোর বিরুদ্ধেও বিশ্বজুড়ে একই ধরনের অননুমোদিত প্রবেশের অভিযোগ উঠেছে।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *