যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বসবাসরত রুয়ান্ডার নাগরিক ৬৫ বছর বয়সী ডা. ভিনসেন্ট ব্রাউনকে ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডা গণহত্যার সাথে সংশ্লিষ্ট অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ব্রিটিশ ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) জানিয়েছে, এটি যুক্তরাজ্যে রুয়ান্ডা গণহত্যার ঘটনায় প্রথম কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে গণহত্যার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি অপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে হত্যার সাথে সংশ্লিষ্ট ছয়টি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
সিপিএসের স্পেশাল ক্রাইম অ্যান্ড কাউন্টার টেরোরিজম ডিভিশনের প্রধান ফ্রাঙ্ক ফার্গুসন জানিয়েছেন, ব্রাউনের বিরুদ্ধে অন্যের মাধ্যমে হত্যা ও গণহত্যা পরিচালনার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আগামী মঙ্গলবার তাকে ওয়েস্টমিনিস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে। মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়ার ক্রাইমস টিমের দাখিল করা প্রমাণাদি পর্যালোচনার পর এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তদন্তের পটভূমি
২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রুয়ান্ডা সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের পর লন্ডনের পুলিশ এই তদন্ত শুরু করে। ১৯৯৪ সালের এপ্রিলে রুয়ান্ডার কিগালির রুগেঞ্জ জেলায় সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এই তদন্ত চালানো হয়। মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম কমান্ডের কমান্ডার হেলেন ফ্ল্যানাগন জানিয়েছেন, দীর্ঘ সাত বছরের জটিল ও ব্যাপক তদন্তের পরই এই অভিযোগ গঠন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই মামলার মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে আন্তর্জাতিক অপরাধে সন্দেহভাজনদের জন্য যুক্তরাজ্য কোনো নিরাপদ আশ্রয়স্থল নয়।
গণহত্যার প্রেক্ষাপট
১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডায় ১০০ দিনের ব্যবধানে প্রায় ৮ লাখ জাতিগত তুৎসি এবং রাজনৈতিকভাবে মধ্যপন্থী হুতু সম্প্রদায়ের মানুষকে হত্যা করা হয়। হুতু উগ্রবাদীরা মূলত সংখ্যালঘু তুৎসি সম্প্রদায় এবং তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের লক্ষ্য করে এই গণহত্যা চালায়। বর্তমান ব্রিটিশ পুলিশ জানিয়েছে, এই গণহত্যার সাথে জড়িত অন্যান্য সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলমান রয়েছে।









