আয়ারল্যান্ডের ডুনবেগে সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে রাশিয়ার ডিজেল অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার এসব স্থাপনায় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার কারণেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে, যা মার্কিন অর্থনীতি ও বিশ্ববাজারে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, জেলেনস্কিকে একটি কাজই করতে হবে, তা হলো রাশিয়ায় ডিজেল জ্বালানির ওপর হামলা বন্ধ করা। তার মতে, হামলার জন্য অন্য অনেক লক্ষ্যবস্তু থাকতে পারে, কিন্তু ডিজেলের ওপর হামলা বিশ্ববাসীর জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু, কারণ এসব প্রতিষ্ঠান মস্কোর যুদ্ধের খরচ জোগায়। গত কয়েক মাসে ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার ড্রোন হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।
আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য মার্কিন ভোটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রতি গ্যালন ডিজেল ৬.০৬ ডলারে বিক্রি হচ্ছে, যা এক বছর আগে ছিল ৩.৭১ ডলার।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ এবং ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত—উভয়ই বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। গত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
ট্রাম্পের মতে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের দায় কেবল মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির নয়, বরং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবেও এই সংকট ঘনীভূত হচ্ছে।










