যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটিতে রেকর্ড করা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাইক্লোস্পোরিয়াসিস প্রাদুর্ভাবের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে। সেন্ট্রাল মেক্সিকো থেকে আসা দূষিত আইসবার্গ লেটুস খাওয়ার কারণে দেশটির ২১টি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হন। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) শুক্রবার জানিয়েছে, প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত দূষিত লেটুস বাজার থেকে প্রত্যাহার করা নিশ্চিত হয়েছে।
এই প্রাদুর্ভাবে মোট ১২ হাজার ৮৮৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫৭০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে এবং দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমিত খাদ্য বা পানীয় গ্রহণের এক সপ্তাহ পর সাধারণত এর উপসর্গ দেখা দেয়। ঘন ঘন পাতলা পায়খানা এই রোগের প্রধান লক্ষণ। এছাড়া ক্ষুধামন্দা, ওজন কমে যাওয়া, পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং প্রচণ্ড ক্লান্তি এই রোগের সাধারণ লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
প্রাদুর্ভাবের উৎস হিসেবে টেলর ফার্মস ডি মেক্সিকো সরবরাহকৃত আইসবার্গ লেটুসকে চিহ্নিত করা হয়। গত ১৭ জুলাই প্রতিষ্ঠানটি মেক্সিকোর ওই অঞ্চল থেকে সংগৃহীত সমস্ত লেটুস বাজার থেকে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। শুরুর দিকে টাকো বেল রেস্তোরাঁর লেটুস নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলেও, পরবর্তীতে তদন্তে দেখা যায় যে টেলর ফার্মস ওই দূষিত পণ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করেছিল।
প্রাদুর্ভাবের শীর্ষে থাকা অবস্থায় একদিনেই এক হাজারেরও বেশি সংক্রমণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল। তবে আগস্ট মাসের মধ্যে সংক্রমণের হার কমে গড়ে দৈনিক দুইজনে নেমে আসে। চলতি বছরে দেশজুড়ে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস সংক্রমণের এই ঘটনা ছিল নজিরবিহীন। গত ১ মে থেকে দেশটিতে প্রায় ২০ হাজার ল্যাবরেটরি-নিশ্চিত সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৬ গুণ বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্য এই প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর ঘটনাটিও সেখানেই ঘটেছে। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আমদানিকৃত পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এফডিএ বিদেশ থেকে আসা খাদ্য প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছে না। ঘটনার তদন্ত চলাকালীন মেক্সিকোর সংশ্লিষ্ট খামারে পরিদর্শনের বিষয়টিও বিলম্বিত হয়েছিল। এফডিএ জানিয়েছে, তারা মেক্সিকোর খামার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে সরেজমিনে পরিদর্শন সম্পন্ন করেছে এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের সাথে যৌথ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।










