ইউক্রেনের কিয়েভে রাশিয়ার নতুন ধরনের বিমান হামলা ও এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, মস্কো তাদের শহর ও গ্রামগুলোকে আগের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় আতঙ্কগ্রস্ত করার কৌশল নিয়েছে। এই নতুন পরিস্থিতির ফলে কিয়েভে নাগরিকদের ঘুম হারাম হওয়া, নিত্যপণ্য কেনাকাটায় ভোগান্তি এবং যাতায়াতে দীর্ঘ বিলম্ব নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে রাশিয়ান বিমান হামলার সংখ্যা ও স্থায়িত্ব উভয়ই বেড়েছে। অগাস্টের শেষ সপ্তাহে হামলার সংখ্যা বেড়ে ৩৪টিতে পৌঁছায়, যার সম্মিলিত সময়কাল ছিল ২৩ ঘণ্টার বেশি। যদিও গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে মার্কিন আলোচনার সময় কিছুটা বিরতি ছিল, তবে সোমবার আবারও নতুন হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন।
হামলার নতুন এই ধরনে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও হামলার সময় অনিশ্চিত রাখা হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ সারা রাত জেগে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন এবং কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে মেট্রো রেলের চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে আটকে থাকছেন কর্মজীবী মানুষ।
স্কুলপড়ুয়া শিশুদের নিয়েও তৈরি হয়েছে বড় অনিশ্চয়তা। অনেক অভিভাবক এখন তাদের সন্তানদের স্কুলে না পাঠিয়ে ঘরে অনলাইনে পড়াতে বাধ্য হচ্ছেন, তবে এতে শিশুদের সামাজিক মেলামেশা ও মনোযোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া খাদ্য ও ওষুধের সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ায় নিত্যপণ্য সংগ্রহও আগের চেয়ে কঠিন হয়ে পড়েছে।
মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর এই যুদ্ধের প্রভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অনেক বাসিন্দা অনিদ্রা দূর করতে ঘুমের ওষুধ বা অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট সেবন করছেন। শীতকাল আসার আগেই বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে নতুন হামলার আশঙ্কায় অনেকেই এখন বিকল্প আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন। তবে যুদ্ধের এই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও ইউক্রেনীয়রা মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখার জন্য প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন।










