বাংলাদেশের কৃষি ও জনস্বাস্থ্য এখন ই-বর্জ্যের ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কৃষিবিদ ও গবেষক ড. রাধেশ্যাম সরকার সতর্ক করে বলেছেন, যথাযথ ব্যবস্থাপনা না থাকায় মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও বিভিন্ন আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির বর্জ্য মাটি ও পানির গুণাগুণ নষ্ট করে ফেলছে। এটি কেবল একটি পরিবেশগত সমস্যা নয়, বরং অর্থনীতি ও দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
ই-বর্জ্যের ভেতরে থাকা সীসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম ও আর্সেনিকের মতো বিষাক্ত উপাদান সহজে প্রকৃতিতে মিশে যায় না। এগুলো মাটির জৈবগুণ নষ্ট করার পাশাপাশি ফসলের শিকড়ের মাধ্যমে খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে। ফলে ক্যান্সার, স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি, কিডনি ও যকৃতের জটিলতার মতো গুরুতর রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে সেন্সর, ড্রোন ও জিপিএস-ভিত্তিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ায় ই-বর্জ্যের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব বর্জ্য সাধারণ আবর্জনার সঙ্গে মিশিয়ে বা খোলা স্থানে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। এতে ডাইঅক্সিনের মতো বিষাক্ত গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে এবং ভারী ধাতু ভূগর্ভস্থ পানিতে মিশে নদী ও জলাশয়ের জলজ পরিবেশকে বিষিয়ে তুলছে।
এই সংকট মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পাঠ্যক্রমে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। ব্যক্তিগত পর্যায়ে দায়িত্বশীলতা এবং সরকারি পর্যায়ে কার্যকর নীতিমালা ও কঠোর আইনি প্রয়োগ ছাড়া এই নীরব বিষ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া কঠিন। এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পুনর্ব্যবহার শিল্প গড়ে তোলা এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞগণ।









