যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে সামরিক বিষয়ক সংবাদপত্র ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-এর প্রধান সম্পাদক এরিক স্লাভিনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পেন্টাগনের পক্ষ থেকে তাকে ‘অবাধ্যতার’ অভিযোগে চাকরিচ্যুত করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের পর স্লাভিন বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেন্সরশিপ নিয়ে নিজের গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। সামরিক সদস্যদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বরখাস্তের নেপথ্য কারণ
স্লাভিনের মতে, সিবিএস নিউজের একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ‘সেন্সরশিপের বিষয়টি একটি রেড লাইন’ হিসেবে মন্তব্য করার কারণেই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি সামরিক সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় স্বাধীনতায় পেন্টাগনের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের সমালোচনা করেছিলেন। স্লাভিনের পাশাপাশি সংবাদপত্রের প্রকাশক ম্যাক লেডারার এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রতিবেদক লারা কর্টেও বরখাস্ত হয়েছেন। যদিও পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
বিতর্কিত পরিবেশ
স্লাভিন জানান, তাকে বরখাস্তের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি এবং আপিলের সুযোগও দেওয়া হয়নি। ২১ বছর ধরে এই সংবাদপত্রের সঙ্গে যুক্ত স্লাভিন মনে করেন, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন যুদ্ধজাহাজের কর্মীদের মানসিক অবস্থা ও দীর্ঘসময় সমুদ্রে অবস্থানের বিষয়ে তাদের প্রতিবেদনের ওপর পেন্টাগন অসন্তুষ্ট ছিল। বর্তমানে পেন্টাগন ও সংবাদমাধ্যমের মধ্যে এক ধরণের টানাপোড়েন চলছে, যেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের সরাসরি তথ্য প্রদানের প্রবণতাও কমে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস সংবাদপত্রটি কংগ্রেসের আদেশ অনুযায়ী পেন্টাগনের অর্থায়নে চললেও সম্পাদকীয়ভাবে স্বতন্ত্র। লারা কর্টে টুইটারে এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, যারা সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়েছেন, তাদের স্বাধীন সংবাদ পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এদিকে, ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মার্ক শোয়েফ জুনিয়র এই বরখাস্তের ঘটনাকে সামরিক সংবাদ কাভারেজ নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন এবং দ্রুত এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।










