কানাডার অটোয়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মার্কিন মদ পুনরায় সুপারশপগুলোর শেলফে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রাদেশিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ ওয়াশিংটনের সাথে কানাডার একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আলোচকরা বুধবার টানা তৃতীয় দিনের মতো বৈঠক করেছেন। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডিয়ান পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সাময়িকভাবে সরে এসেছেন।
চুক্তির বিস্তারিত
চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে এর বিস্তারিত জানানো হবে। তবে নোভা স্কশিয়ার প্রিমিয়ার টিম হিউস্টন জানিয়েছেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী প্রদেশগুলোকে মার্কিন হুইস্কি ও অন্যান্য পানীয়র ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অনুরোধ করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন এই চুক্তিতে কানাডার স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম ও অটোমোবাইল খাতের পাশাপাশি মার্কিন অ্যালকোহল পণ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বৈঠকের পর জানান, তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পেরেছেন বলে আশাবাদী। তিনি দাবি করেন, এই চুক্তি মার্কিন শ্রমিক ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি উত্তর আমেরিকার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। গ্রিয়ার শিগগিরই মার্কিন কংগ্রেসকে চুক্তির খুঁটিনাটি বিষয়ে ব্রিফ করবেন।
শুল্ক হ্রাস ও অন্যান্য শর্ত
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কানাডার স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর মার্কিন শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হতে পারে। এছাড়া কানাডায় তৈরি গাড়ির ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে নামানোর সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, কানাডা মার্কিন কৃষিপণ্যের ওপর থেকে শুল্ক তুলে নিতে সম্মত হয়েছে। তবে কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লেব্লাঙ্ক স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের দুগ্ধজাত পণ্যের ব্যবস্থাপনা কাঠামো অপরিবর্তিত থাকবে।
প্রতিক্রিয়া
গত বছর মার্কিন শুল্কের প্রতিশোধ হিসেবে কানাডার অধিকাংশ প্রদেশে মার্কিন অ্যালকোহল বিক্রি বন্ধ করা হয়েছিল। ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো উভয় দেশেই এই চুক্তিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, শুল্কের বোঝা কমানো দুই দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের জন্য সহায়ক হবে। তবে কানাডায় জনমত জরিপ বলছে, অধিকাংশ নাগরিকই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অতিরিক্ত ছাড় দিয়ে কোনো চুক্তি করার বিরোধী।










